তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনায় তড়িঘড়ি ময়দানে অভিষেক, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর স্বীকৃতি রুখতে স্পিকারকে চিঠি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের ফল প্রকাশের পরেই জোড়ফুল শিবিরে ভাঙনের আবহ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে আলাদা গোষ্ঠী বা ফ্যাকশন তৈরি করার তোড়জোড় চালাচ্ছেন— এমন খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। লোকসভায় বিদ্রোহী ব্লকের আইনি স্বীকৃতি রুখতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। শনিবার স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে অভিষেকের সেই চিঠি জমা দিয়ে এসেছেন দলের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তৃণমূলের বক্তব্য না শুনে এই ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীকে যেন কোনওভাবেই মান্যতা দেওয়া না হয়।
চিঠিতে আইনি পরিকাঠামো ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ
স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস একক এবং অদ্বিতীয় একটি রাজনৈতিক দল। দল ভাঙার চেষ্টা যে আইনত আসাম্ভব, তা বোঝাতে ২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনেছেন তিনি। এই সংশোধনী অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদটি বাদ যাওয়ায় এখন আর ‘দল ভাগে’র পক্ষে কোনও আইনি সওয়াল করার জায়গা নেই। ফলে কোনও সাংসদ দলবিরোধী কাজ করলে তা সরাসরি ‘দলত্যাগ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং তাঁর পদ খারিজ হতে পারে।
পাশাপাশি, ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের ‘সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল’ মামলার ঐতিহাসিক রায় উল্লেখ করে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, সংসদীয় দল নয়, মূল রাজনৈতিক দলই আসল শক্তির উৎস। মূল দলকে অন্ধকারে রেখে কয়েকজন সাংসদ নিজেদের মতো দলনেতা বা হুইপ বেছে নিতে পারেন না। এছাড়াও, লোকসভার নির্দেশিকা অনুযায়ী নতুন কোনও ‘গ্রুপ’ তৈরি করতে গেলে ন্যূনতম ৩০ জন সাংসদের সমর্থন লাগে। তাই একতরফাভাবে কোনও সমান্তরাল গোষ্ঠীকে মান্যতা না দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রভাব ও সংঘাতের কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ফাটল ও ক্ষোভকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে অত্যন্ত আগ্রাসী কৌশল নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দলের বাকি সাংসদদের কাছেও একটি কড়া বার্তা দিতে চাইলেন যে, দলবিরোধী কাজ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে।
চিঠি জমা দিয়ে স্পিকারের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন। এই ভাঙনের চেষ্টাকে ‘অসাংবিধানিক, বেআইনি এবং নৈতিক দুর্বলতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা। তৃণমূলের এই প্রবল আইনি ও রাজনৈতিক আপত্তির পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখন কী ভূমিকা নেন এবং বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতির এই নতুন সমীকরণের ভবিষ্যৎ।
