তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! অভিষেককে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন কল্যাণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন এবার সরাসরি অভিষেকের দিকে!
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নবীন ও প্রবীণ শিবিরের দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই এখন প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বিষোদ্গার করে তৃণমূলের শীর্ষ মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইস্তফার নেপথ্যে অভিষেককে দায়ী করলেন কল্যাণ
কলকাতার রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার দুই হেভিওয়েট কাউন্সিলরের আকস্মিক পদত্যাগ। ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী এবং ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের একসঙ্গে ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাকে বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি দায়ী করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ এই আইনজীবী-সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাদের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তারাই আজ দলের বিপদের মুখে দায়িত্ব এড়িয়ে পালাচ্ছেন।
তরুণ নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের মূল নিশানায় রয়েছেন অভিষেকের অনুগামী বলে পরিচিত নেতারা। বিশেষ করে অরূপ চক্রবর্তীর মতো তরুণ নেতাদের সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, অভিষেক নিজের পছন্দে যাদের দলের শীর্ষ স্তরে নিয়ে এসেছেন, তারাই আজ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। এই সংঘাতের জেরে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত এখন প্রবলভাবে কেঁপে উঠেছে।
দলের অন্দরে এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রশ্নে এক বড় সংকট তৈরি করেছে। প্রবীণ বনাম নবীন নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব যদি অচিরেই প্রশমিত না হয়, তবে তা সরকারের ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
