তৃণমূলের অভিজ্ঞ মুখই এবার বিধানসভার বিরোধী কাণ্ডারি, শোভনদেবের কাঁধে বড় দায়িত্ব!

তৃণমূলের অভিজ্ঞ মুখই এবার বিধানসভার বিরোধী কাণ্ডারি, শোভনদেবের কাঁধে বড় দায়িত্ব!

রাজ্যে দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবার বিরোধী আসনে। এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিধানসভায় পরিষদীয় লড়াই চালাতে দলের সবথেকে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মুখ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করল ঘাসফুল শিবির। বিধানসভার ৮০ সদস্যের শক্তিশালী বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তাঁর মনোনয়ন কেবল বয়সের জ্যেষ্ঠতা নয়, বরং সংসদীয় রীতিনীতিতে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের ওপর দলের আস্থার প্রতিফলন।

অভিজ্ঞতায় ভরসা ও পরিষদীয় কৌশলে বদল

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। দলের টিকিটে রাজ্যের প্রথম বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে শাসকদলের মুখ্য সচেতক এবং মন্ত্রী— দীর্ঘ কয়েক দশকের সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তাঁকে সামনে রেখে তৃণমূল আসলে বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধিতার বার্তা দিতে চাইছে। শোভনদেবের পাশাপাশি পরিষদীয় দলের উপ-নেতা হিসেবে অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এছাড়া ফিরহাদ হাকিমকে সচেতক বা হুইপ হিসেবে নিয়োগ করে দল বিধানসভায় তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করল।

বিরোধী শিবিরের নতুন মুখ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

রাজ্যে বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা তৃণমূলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন শান্ত অথচ দৃঢ়চেতা নেতার নেতৃত্বে বিধানসভায় বিরোধীদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সংসদীয় আইন এবং নিয়মাবলি নিখুঁতভাবে মেনে ক্ষমতাসীন সরকারকে চেপে ধরা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অধিবেশনে বলিষ্ঠভাবে উত্থাপন করাই হবে এই নতুন পরিষদীয় দলের প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশনগুলো যে যথেষ্ট উত্তপ্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ হবে, তা বলাই বাহুল্য।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *