জোড়াসাঁকোয় স্লোগান নিয়ে কড়া মুখ্যমন্ত্রী, ‘জয় শ্রীরাম’ থামিয়ে রবি-প্রণাম শেখালেন শুভেন্দু!

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রশাসনিক কাজের থেকেও বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২৫শে বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই পৌঁছে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তবে সেখানে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। দলীয় সমর্থকদের অতি-উৎসাহে ঠাকুরবাড়ির পবিত্র আঙিনায় রাজনৈতিক স্লোগান ওঠায় প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
সাংস্কৃতিক মর্যাদাবোধ বনাম রাজনৈতিক উন্মাদনা
ঠাকুরবাড়িতে প্রবেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত জনতা ও দলীয় কর্মীদের একাংশ। তাঁরা সজোরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সাধারণত বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই স্লোগান অত্যন্ত পরিচিত হলেও, ঠাকুরবাড়ির মতো সাংস্কৃতিক পীঠস্থানে এই স্লোগানকে যে তিনি সমর্থন করছেন না, তা শুভেন্দু অধিকারীর শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কবিগুরুর জন্মতিথিতে ঠাকুরবাড়ির গাম্ভীর্য বজায় রাখা যে তাঁর কাছে সবথেকে বড় কর্তব্য, তা তিনি বুঝিয়ে দেন মুহূর্তের মধ্যেই।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ও স্লোগান বদল
স্লোগান শুনে কিছুটা বিরক্ত হয়েই ঘুরে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত সমর্থকদের সরাসরি উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই স্থানটি রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, “এখানে এই স্লোগান নয়, বলুন ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ও স্পষ্ট বার্তার পর মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। অনুগামীরাও তৎক্ষণাৎ তাঁদের স্লোগান বদলে ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন। রবীন্দ্রনাথের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদনের দৃশ্য উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছেও এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
বার্তা: বাংলার কৃষ্টিই শ্রেষ্ঠ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত অর্থবহ। তিনি আসলে এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, সরকারে আসার পর কেবল দলীয় আদর্শ নয়, বরং বাংলার মনীষী এবং কৃষ্টির মর্যাদা রক্ষায় তিনি বদ্ধপরিকর। ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত না হয়, সেদিকে নজর দিয়ে তিনি যেমন একদিকে প্রশংসিত হচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর এই প্রশাসনিক দৃঢ়তা দলের নীচুতলার কর্মীদের কাছেও এক কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
