ত্বিশার পর এবার বিশাখা! চিকিৎসক স্বামীর গোপন নজরদারি ও পণের দাবিতে প্রাণ হারালেন তরুণী – এবেলা

ত্বিশার পর এবার বিশাখা! চিকিৎসক স্বামীর গোপন নজরদারি ও পণের দাবিতে প্রাণ হারালেন তরুণী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রদেশের ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের পণের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠল মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে। বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিশাখা তিলকর নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও দেওরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিক্ষিত ও পেশাদার সমাজে পণের দাবিতে এই ধরনের ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনা নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সন্দেহ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ

গত ৩০ এপ্রিল পেশায় চিকিৎসক নিতিন তিলকরের সঙ্গে বিয়ে হয় বিশাখার। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই শুরু হয় টাকা ও গয়নার জন্য লাগাতার চাপ এবং শারীরিক নির্যাতন। স্বামীর বিরুদ্ধে শুধু পণের দাবির অভিযোগই নয়, রয়েছে চরম সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মানসিক নিগ্রহের অভিযোগও। স্ত্রী কার সঙ্গে কথা বলছেন বা কোথায় যাচ্ছেন, তার উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতেন নিতিন। এমনকি বিশাখার গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বাড়ির অন্দরে গোপন ক্যামেরাও বসানো হয়েছিল। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামান্য কথা বললেও জুটত মারধর। এই অমানবিক অত্যাচারে নিতিনকে মদত দিতেন তাঁর মা ছায়া এবং ভাই নিনাদ।

পারিবারিক চেষ্টা ব্যর্থ ও সামাজিক প্রভাব

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়িতে সমস্ত ঘটনা জানিয়েছিলেন বিশাখা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাঁর পরিবার। মঙ্গলবারই তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই বিশাখার মৃত্যুর খবর পৌঁছায় পরিবারের কাছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা সদ্য ঘটে যাওয়া ভোপালের ত্বিশা শর্মার মৃত্যুকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। সেখানেও পণের দাবিতে খুনের অভিযোগে স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষিত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারেও পণের জন্য এমন নারকীয় নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে, সমাজের গভীরে যৌতুক প্রথা ও মানসিক বিকৃতি এখনও কতটা প্রকট। এর ফলে বিবাহিত নারীদের নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সুরক্ষা আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে সমাজে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *