ত্রাণ চুরির অভিযোগে তোলপাড় সন্দেশখালি, হস্টেলের বন্ধ ঘর থেকে বস্তা বস্তা ত্রিপল ও শাড়ি উদ্ধার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ঘূর্ণিঝড় আমফান ও ইয়াসের সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন হাজার হাজার দুর্গত মানুষ সামান্য ত্রাণের জন্য হাহাকার করছিলেন, তখন সেই ত্রাণের বিপুল পরিমাণ সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছিল একটি স্কুলের হস্টেলে। শনিবার সন্দেশখালি দু’নম্বর ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাটগাছা হস্টেলের একটি বন্ধ ঘর থেকে বস্তা বস্তা ত্রিপল ও শাড়ি উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। এই ঘটনার নেপথ্যে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি সত্যজ্যোতি সান্যালের হাত রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ত্রাণবঞ্চিতদের ক্ষোভ ও নেপথ্যের রাজনীতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে শেখ শাহজাহানের হাত ধরে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন সত্যজ্যোতি সান্যাল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে না দেওয়া এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এই নেতার নাম জড়িয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এলাকায় দেখা মিলছে না এই দাপুটে তৃণমূল নেতার। এরই মধ্যে হস্টেলের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনাটি প্রকাশ্য আসতেই স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ে রাস্তায়। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা।
দুর্যোগের দুর্নীতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফান ও ইয়াসের তাণ্ডবে সুন্দরবন সংলগ্ন সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ঘরবাড়ি হারিয়ে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে চরম কষ্টে কাটিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠানো হলেও তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি বলে তখন থেকেই অভিযোগ উঠছিল। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই ত্রাণ চুরির জ্যান্ত প্রমাণ মেলায় এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এবং শাসকদলের অস্বস্তি যেমন আরও বাড়ল, তেমনই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আগামী দিনে সন্দেশখালির আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
