দলবদলু বিরোধী এনসিপিআই-তেই কাকলি-সুদীপরা, রাতারাতি দেশের পঞ্চম বৃহত্তম দল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘দলবদলু মুখ চাই না’— ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশের সময় এটাই ছিল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-এর মূল মন্ত্র। অথচ সেই দলেই এবার মিশে যেতে চলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। এই সাংসদরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করবেন বলে জানা গিয়েছে। আর এই দলবদলের জেরে শূন্য থেকে রাতারাতি দেশের পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে চলেছে কার্যত অস্তিত্বহীন এই দলটি।
ঠিকানা বাংলার, রাজনীতি ত্রিপুরার
এনসিপিআই মূলত ত্রিপুরার একটি রেজিস্টার্ড কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল, যার জন্ম ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দলটির ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বানিপুরে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দলটির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ শিউলি কুণ্ডু, যিনি হাওড়ার ঠিকানায় দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ডিরেক্টর। তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুর সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি ছবি ঘিরেও জল্পনা রয়েছে। কলম প্রতীক নিয়ে এই দলটি ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই লড়াই করেছিল। মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয় ফল করার পর অর্থের অভাবে দলটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এনডিএ-কে সমর্থনের জন্য একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ছাতার প্রয়োজন ছিল, আর সেই সমীকরণ থেকেই হাওড়া-ভিত্তিক এই আনকোরা দলটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটের শক্তি বৃদ্ধি পেলেও খোদ এনসিপিআই-এর অন্দরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের ত্রিপুরা ইউনিটের নিয়ন্ত্রক তথা অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে নিজেকে আরএসএস (RSS) কর্মী হিসেবে দাবি করে জানিয়েছেন, এই সংযুক্তিতে তিনি একেবারেই খুশি নন। আগাগোড়া তৃণমূল-বিরোধী অবস্থান নিয়ে লড়াই করা একটি দলে তৃণমূল সাংসদদের এই অনুপ্রবেশ আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরে বড়সড় আদর্শগত সংঘাতের জন্ম দিতে চলেছে।
