দলে বেনোজল রুখতে এবার ছাঁকনি হাতে ময়দানে নামছে আরএসএস! – এবেলা

দলে বেনোজল রুখতে এবার ছাঁকনি হাতে ময়দানে নামছে আরএসএস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গেরুয়া শিবিরে হঠাৎ করেই নতুন মুখের ভিড় উপচে পড়ছে। বুথ থেকে জেলা স্তর—সবখানেই রাতারাতি নিজেদের বিজেপি কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা চোখে পড়ছে। তবে এই নবাগতদের সবাইকে যে সহজে দলে জায়গা দেওয়া হবে না, সেই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। দলীয় সংগঠনে ঢুকে পড়া সুযোগসন্ধানীদের চিহ্নিত করে এবার এক বড়সড় ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’ শুরু হতে চলেছে রাজনৈতিক মহলে।

কোণঠাসা পুরনোরা, বাড়ছে ক্ষোভ

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন স্তরে দলীয় পদ ও প্রভাব পাওয়ার আশায় একদল মানুষের তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। বহু নতুন মুখ স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে বিভিন্ন শাখা সংগঠনে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের পুরনো কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে দলের দুঃসময়ে যাঁদের পাশে পাওয়া যায়নি, তাঁরাই এখন রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য লড়াই করা আদি কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

কড়া নজরদারিতে আরএসএস

সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শগত ভিত্তি অটুট রাখতে আরএসএস এবার সরাসরি সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে। সূত্রের খবর, কারা দলের পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মী এবং কারা ভোটের ফল প্রকাশের পর রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তার একটি বিস্তারিত তালিকা ইতিমধ্যেই আরএসএসের কাছে রয়েছে। বুথ, মণ্ডল ও জেলা কমিটির পুনর্গঠনের সময় এই তথ্যের ভিত্তিতেই ছাঁটাই প্রক্রিয়া চালানো হবে। নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরএসএসের মতামতই চূড়ান্ত হয়ে উঠতে চলেছে। শুধু বিজেপির নাম ব্যবহার করলেই হবে না, দলে টিকতে হলে আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিতে হবে।

শুদ্ধিকরণের প্রভাব

আরএসএস নেতৃত্বের মূল আশঙ্কা হলো, বিতর্কিত ভাবমূর্তি ও সুযোগসন্ধানী কিছু ব্যক্তি দলে থেকে গেলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ‘আসল’ ও ‘নকল’ কর্মী আলাদা করতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি বিতর্কিত কিছু নেতার সাংগঠনিক পদও খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে নতুনদের পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দেওয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনই দলের রাশও বেহাত হতে দেওয়া যাবে না। ফলে সংগঠনের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই শুদ্ধিকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *