দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার মুখে ভারত! এল নিনোর থাবায় চরম সংকটের আশঙ্কা – এবেলা

দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার মুখে ভারত! এল নিনোর থাবায় চরম সংকটের আশঙ্কা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দশ বছরের মধ্যে শুষ্কতম বর্ষার কবলে ভারত, এল নিনোর প্রভাবে উদ্বিগ্ন আবহাওয়াবিদরা

টানা দুই বছর ভালো বর্ষা ও পর্যাপ্ত ফসল পাওয়ার পর ভারতের কৃষিখাত এবং জনজীবন এবছর বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি। ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশ গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্কতম বর্ষাকাল প্রত্যক্ষ করতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবার স্বাভাবিকের মাত্র ৯০ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ভারতের সামগ্রিক কৃষি ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এল নিনোর আগ্রাসন ও বৃষ্টিপাতের সংকট

এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘এল নিনো’ বা প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণায়নকে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো সৃষ্টির ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক সঞ্চালন প্রক্রিয়া বা ‘ওয়াকার সার্কুলেশন’ বাধাগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে ভারত অভিমুখে ধাবিত আর্দ্র বাতাস দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে সরে যায়, যার ফলে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। ঐতিহাসিকভাবে এল নিনো বর্ষা বছরে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের হার প্রায় ৬০ শতাংশ। এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর তীব্রতা বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের ধারাকে ব্যাহত করবে।

কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা

ভারতের বৃষ্টি-নির্ভর কৃষিখাতের জন্য এবারের পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষক সেচ সুবিধার বাইরে পুরোপুরি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গুজরাট থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মৌসুমী কোর জোন’-এ স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস কৃষকদের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। ধানের পাশাপাশি ডাল, তৈলবীজ এবং মোটা দানা শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির ওপর, কারণ দেশের মূল্যস্ফীতি সূচকে খাদ্যের ওজন ৩৭ শতাংশ।

তদুপরি, ভারত মহাসাগরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (আইওডি) এবার নিরপেক্ষ থাকায় এল নিনোর শুষ্ক প্রভাব প্রতিহত করার মতো কোনো অনুকূল পরিবেশ থাকছে না। সব মিলিয়ে, জুন মাসের শেষের দিকে আইএমডির পরবর্তী বুলেটিন না আসা পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় পার করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *