দিঘায় আর দিতে হবে না বাড়তি টাকা, পর্যটকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী ও হয়রানিহীন হতে চলেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে দিঘায় বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের হোটেল বিলের সাথে চাঁদা বাবদ আর কোনো বাড়তি টাকা দিতে হবে না। রবিবার দিঘায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটকদের ভ্রমণ খরচ যেমন কমবে, তেমনই পর্যটন ক্ষেত্রে একধরণের স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত ও সিদ্ধান্তের কারণ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে দিঘার হোটেলগুলোর মাধ্যমে পর্যটকদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হতো। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই খাত থেকে বছরে মাত্র ৩০ লাখ টাকা আদায় হয়। অথচ প্রতি বছর দিঘায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ পর্যটক আসেন। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের হিসাবের সাথে সংগৃহীত অর্থের এই বিশাল ব্যবধানের পেছনে বড় ধরণের দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকি লুকিয়ে রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া, যে সমস্ত পর্যটকরা ইতিমধ্যেই আয়কর ও জিএসটি দিচ্ছেন, তাঁদের কাছ থেকে পুনরায় ১০ টাকা হাত পেতে নেওয়াকে সরকারের নীতি ও রুচি-বিরোধী কাজ বলে তিনি অভিহিত করেছেন। দিঘার পাশাপাশি মন্দারমণি, শংকরপুর এবং তাজপুরের মতো সংলগ্ন উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বর্তমান সরকারের।
পর্যটনে প্রভাব ও রাজ্য জুড়ে জনকল্যাণ শিবির
এই বাড়তি ফি প্রত্যাহারের ফলে দিঘা ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের আগমন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ও পুরসভায় শুরু হচ্ছে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’। ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবিরগুলো চলবে। এখান থেকে সাধারণ নাগরিকরা অন্নপূর্ণা ভান্ডার, আয়ুষ্মান যোজনা ও জব কার্ডের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধার জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।
