দিদির ১৫ বছরের মন্ত্রিসভায় প্রতিভার আকাল, কড়া মূল্যায়নে মাত্র ছ’জন সফল – এবেলা

দিদির ১৫ বছরের মন্ত্রিসভায় প্রতিভার আকাল, কড়া মূল্যায়নে মাত্র ছ’জন সফল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস জমানার ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় বহু মুখ এসেছেন এবং গিয়েছেন। তবে সাড়ে তিন মেয়াদের এই শাসনকালে মন্ত্রীদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বা দক্ষতা নিয়ে খতিয়ান ঘাঁটতে গেলে এক বড়সড় শূন্যতা চোখে পড়ে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, দিদির মন্ত্রিসভায় প্রকৃত প্রতিভার এতটাই আকাল ছিল যে, সফল ও যোগ্য মন্ত্রীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করাও অত্যন্ত দুরুহ কাজ। বিভিন্ন আমলা এবং প্রশাসনিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ছয়জন মন্ত্রী নিজেদের কাজের মাধ্যমে কিছুটা ছাপ ফেলতে পেরেছেন, যাদের আবার দুটিdistinct ভাগে ভাগ করা যায়।

সেরা পারফরমার বনাম উজ্জ্বল ব্যতিক্রম

১৫ বছরের রাজত্বে মাত্র দুজন মন্ত্রীকে ‘প্রথম সারির’ বা যেকোনো দলেই সুযোগ পাওয়ার মতো যোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই তালিকায় প্রথম নামটি শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর চার বছরের পরিবহণ মন্ত্রিত্বের মেয়াদে একাধিক সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে, যা কলকাতার চেনা কর্মসংস্কৃতির নিরিখে ছিল নজিরবিহীন। প্রশাসনিক দক্ষতার দিক থেকে দ্বিতীয় সফল নাম শোভন চট্টোপাধ্যায়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে এবং আমলাতন্ত্রকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ হাসিল করার এক বিরল ক্ষমতা ছিল তাঁর।

বাকি চারজন মন্ত্রীকে প্রথম সারির বলা না গেলেও, সহকর্মীদের তুলনায় তাঁরা ছিলেন অনেক বেশি কর্মক্ষম ও উজ্জ্বল। এই তালিকায় রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু এবং প্রদীপ ভট্টাচার্য। ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও তাঁর কায়িক পরিশ্রম ও মাঠে নেমে কাজ করার ক্ষমতা তাঁকে মন্ত্রিসভার অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর আইনি শিক্ষা ও যুক্তিপূর্ণ সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের কারণে এবং ব্রাত্য বসু তাঁর ভদ্রতা, শিক্ষা ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বের কারণে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। পুরনো কংগ্রেসী ঘরানার প্রদীপ ভট্টাচার্যও রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে দফতরের প্রশাসনিক পড়াশোনা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যতিক্রমী।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মূল্যায়নে স্পষ্ট যে, দলে অনুগত ও জনপ্রিয় মুখের ভিড় থাকলেও প্রশাসনিক কাজে দূরদর্শিতা ও নীতি নির্ধারণের যোগ্যতাসম্পন্ন নেতার অভাব ছিল স্পষ্ট। একটি সরকারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাঁর মন্ত্রিসভার যৌথ দক্ষতা। যখন মুষ্টিমেয় কয়েকজন মন্ত্রীর ওপর সমস্ত কাজের চাপ নির্ভর করে, তখন সার্বিক উন্নয়ন থমকে যেতে বাধ্য। প্রতিভার এই ঘাটতি আগামী দিনে রাজ্যের নীতি প্রণয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সাথে, যোগ্য বিকল্প নেতৃত্বের অভাব দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথকেও জটিল করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *