দিল্লি ও কলকাতায় আপসহীন লড়াইয়ের ডাক দিয়ে কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন অভিষেক

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের আবহে বিরোধী রাজনীতির ময়দানে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রে এবং রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ‘শক্তিশালী এবং আপসহীন বিরোধী’ হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী-সমর্থক যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের মনোবল বজায় রাখতে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের ওপর হওয়া যেকোনো ধরনের হিংসা বা হুমকির ঘটনা সরাসরি তাঁর সঙ্গে শেয়ার করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন অভিষেক।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা, তাদের ভূমিকা আজ প্রশ্নের মুখে। তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি আসনে অনৈতিকভাবে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। ভোট গণনা প্রক্রিয়া, ইভিএম রক্ষণাবেক্ষণ এবং কন্ট্রোল ইউনিটের তথ্যে অসামঞ্জস্যের মতো বিষয়গুলো সামনে এনে তিনি অবিলম্বে গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ভিভিপ্যাট স্লিপ স্বচ্ছভাবে গণনার দাবি জানিয়েছেন।
সংগ্রাম ও আগামীর কৌশল
নির্বাচন পরবর্তী এই সময়ে তৃণমূলের অবস্থান হবে জনমুখী এবং লড়াইমুখী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে বাম ও অতিবামসহ সকল অবিজেপি শক্তিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সেই সুরেই অভিষেক জানিয়েছেন, সরকারি এজেন্সিগুলোর পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূল মাথা নত করবে না। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই লড়াই কেবল ক্ষমতার জন্য নয় বরং ভোটাধিকার রক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার লড়াই। কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিকার করতে দল আইনি ও রাজনৈতিকভাবে তাঁদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
এক ঝলকে
- বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে কেন্দ্রে ও রাজ্যে আপসহীন শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে তৃণমূল।
- নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিভিপ্যাট গণনার দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ভোটার তালিকা থেকে ৩০ লক্ষ নাম বাদ এবং ১০০টি আসনে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জোড়াফুল শিবির।
- আক্রান্ত কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং সরাসরি অভিযোগ জানাতে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগের আশ্বাস দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
