দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল, বিস্ফোরক ও গ্রেনেড-সহ ধৃত ৯ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজধানী দিল্লিতে ফের একবার বড়সড় জঙ্গি হানার ভয়ঙ্কর ছক ব্যর্থ করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি-কো ম্পা নি’ যৌথভাবে এই মডিউলটি তৈরি করেছিল। গোয়েন্দা তৎপরতায় সেই আন্তর্জাতিক চক্রের পর্দাফাঁস করে শনিবার ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং মারাত্মক বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন নেপালি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হামলার লক্ষ্য ও সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি বা সামরিক প্রতিষ্ঠান, মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান এবং বড় বড় জনবহুল ধর্মীয় স্থানগুলিকে নিশানা করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল এই জঙ্গিদের ওপর। রাজধানী জুড়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর চক্রান্ত করেছিল এই মডিউল। এই যৌথ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই দিল্লিতে মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছিল। বর্তমানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই চক্রের আর্থিক উৎস, নিয়োগের ধরন এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বা স্থানীয় স্তরে কারা এদের সাহায্য করছিল, তা জানতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক মাদক ও হাওয়ালা যোগের ছায়া
এই মডিউল ধ্বংসের ঠিক এক মাস আগে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি দাউদ ইব্রাহিমের আন্তর্জাতিক মাদক সাম্রাজ্যের অন্যতম সহযোগী মহম্মদ সালিম ডোলাকে তুরস্ক থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করে এনেছে। তদন্তকারীদের মতে, দাউদ ইব্রাহিমের আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসার অন্যতম চাবিকাঠি ছিল এই সালিম ডোলা। পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপ জুড়ে বিস্তৃত মাদক চক্রের কালো টাকা কীভাবে ‘হাওয়ালা’ মারফত ঘুরিয়ে ভারতের বুকে নাশকতামূলক এবং সংগঠিত অপরাধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার ব্লু-প্রিন্ট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ডোলার মাদক নেটওয়ার্কের এই অর্থই দিল্লির দাউদ-আইএসআই যৌথ জঙ্গি মডিউলে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এই চক্রের পর্দাফাঁস দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক সাফল্য।
