দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, পশ্চিমবঙ্গে এবার চালু হচ্ছে থমকে থাকা সাতটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্য রাজনীতি এবং প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে রাজ্যে এতদিন যে সমস্ত কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থমকে ছিল, তা এবার পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বাধা পাওয়া বা আটকে থাকা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প নতুন বিজেপি সরকারের হাত ধরে দ্রুত বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ।
জনকল্যাণে বড় সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্পসমূহ
রাজ্যে যে সাতটি বড় প্রকল্প এতদিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মতপার্থক্যের কারণে বাস্তবায়িত হতে পারেনি, তার মধ্যে অন্যতম হলো মোদী সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’। এই প্রকল্পের অধীনে দরিদ্র পরিবারগুলো বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়, যা এতদিন রাজ্যে কার্যকর ছিল না। এছাড়া, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে তৈরি ‘পিএম শ্রী স্কুল’ প্রকল্পটিও এবার সবুজ সংকেত পেতে যাচ্ছে।
তৎকালীন রাজ্য সরকারের আপত্তিতে এতদিন আটকে ছিল ‘পিএম মৎস্য সম্পদ যোজনা’ এবং কারিগরদের কল্যাণে আনা ‘পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প’। নতুন রাজনৈতিক আবহে এই প্রকল্প দুটি চালু হলে মৎস্যজীবী ও প্রান্তিক কারিগরদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য তৈরি ‘চা শ্রমিক প্রণোদনা প্রকল্প’ এবং কৃষকদের সুরক্ষায় ‘পিএম শস্য বীমা প্রকল্প’ চালু করার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন প্রকল্পের তহবিল সংক্রান্ত জটিলতায় থমকে থাকা ‘পিএম হাউজিং স্কিম’ বা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজও এবার গতি পাবে।
দ্বন্দ্বের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রের প্রকল্পগুলোর নাম পরিবর্তন এবং তহবিল আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকার ‘জল স্বপ্ন যোজনা’ হিসেবে চালাচ্ছিল। অন্যদিকে, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১০০ দিনের কাজ (এমজিএনআরইজিএ), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং গ্রাম সড়ক যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ অর্থ কেন্দ্র আটকে রেখেছিল।
এই দীর্ঘমেয়াদি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল রাজ্যের সাধারণ মানুষের ওপর। কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছিল একটি বড় অংশকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে থমকে থাকা প্রকল্পগুলোর দুয়ার খুলে যাওয়ায় রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং গ্রামীণ আবাসন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে সরাসরি কেন্দ্রীয় অনুদান পৌঁছে যাওয়ার পথ সুগম হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিও নতুন গতি পেতে পারে।
