দুই নয়, তিনটি প্রাইভেট পার্ট নিয়ে জন্ম নিল এক শিশু! তাজ্জব চিকিৎসকরা

ইরাকের উত্তর মোসুল এলাকায় তিন জননেন্দ্রিয় বা প্রাইভেট পার্ট নিয়ে এক শিশুর জন্ম হয়েছে যা চিকিৎসকদের রীতিমতো বিস্মিত করেছে। মানব ইতিহাসের বিরলতম এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ট্রাইফালিয়া’ নামে পরিচিত। সাধারণত আঙুলের সংখ্যা কমবেশি হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, জননাঙ্গ নিয়ে এমন জটিল ও ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন এর আগে কখনও নথিভুক্ত হয়নি।
জটিল অস্ত্রোপচার ও কারণ
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ সার্জারিতে প্রকাশিত এই ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, শিশুটির মূল লিঙ্গের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুটি লিঙ্গ ছিল যাদের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ২ সেন্টিমিটার এবং ১ সেন্টিমিটার। তবে অতিরিক্ত অঙ্গগুলো কোনো শারীরিক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম ছিল না। চিকিৎসকরা সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাড়তি অংশ দুটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি অথবা বংশগত ও জেনেটিক কারণে এমন অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার বিরলতা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ শিশুর মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে একাধিক অঙ্গ নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। এর আগে বিশ্বে প্রায় ১০০ জন শিশু দুটি লিঙ্গ (ডিফালিয়া) নিয়ে জন্মানোর প্রমাণ থাকলেও, তিনটি লিঙ্গ নিয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার এটিই প্রথম স্বীকৃত ঘটনা। যদিও ২০১৫ সালে ভারতে অনুরূপ একটি ঘটনার গুঞ্জন উঠেছিল, তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণের অভাবে তা বৈশ্বিক স্বীকৃতি পায়নি। ইরাকের এই ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
এক ঝলকে
বিশ্বজুড়ে এর আগে ডিফালিয়া বা দুটি লিঙ্গ নিয়ে জন্মের ঘটনা থাকলেও ট্রাইফালিয়া এটিই প্রথম।
ইরাকে বিশ্বের প্রথম শিশু হিসেবে তিনটি প্রাইভেট পার্ট বা ‘ট্রাইফালিয়া’ নিয়ে এক শিশুর জন্ম হয়েছে।
শিশুটির মূল অঙ্গের বাইরে ২ সেন্টিমিটার ও ১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি অতিরিক্ত অঙ্গ ছিল।
চিকিৎসকরা সফলভাবে বাড়তি অঙ্গ দুটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন।
