দুবাই নয়, তুরস্কের ডেরায় হানা! দাউদ ঘনিষ্ঠ সেলিম ডোলার একটি মাত্র ভুলেই কেল্লাফতে ভারতীয় সংস্থার

দুবাই নয়, তুরস্কের ডেরায় হানা! দাউদ ঘনিষ্ঠ সেলিম ডোলার একটি মাত্র ভুলেই কেল্লাফতে ভারতীয় সংস্থার

কুরিয়ার সার্ভিসের একটি সাধারণ ভুলেই পর্দাফাঁস হলো দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়া সেলিম ডোলার। দীর্ঘ দেড় বছর ইস্তাম্বুলের একটি গোপন আস্তানায় নিজেকে পুরোপুরি বন্দি করে রাখার পর, শেষ রক্ষা হলো না এই মাদক সম্রাটের। সম্প্রতি তাকে তুরস্ক থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাসপোর্ট জালিয়াতি ও আত্মগোপন

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, সেলিম ডোলা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘হামজা’ নামে এক ভুয়া পরিচয় ধারণ করে বসবাস করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বুলগেরিয়ান এবং দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। নিজেকে আড়াল করতে তিনি দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে বের হননি এবং বাইরের জগতের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। তবে নিজের ঠিকানায় একটি কুরিয়ার পার্সেল অর্ডার করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। এই পার্সেলের সূত্র ধরেই ইন্টারপোলের সহায়তায় ভারতীয় গোয়েন্দারা তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

মাদক সাম্রাজ্যের বিস্তার

তুরস্ককে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে সেলিম ডোলা এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সিন্থেটিক ড্রাগ বা এমডিএমএ (MDMA) পাচার করত। তার পুরো পরিবার এই অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে তার ছেলে তাহির ডোলাকেও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সেলিম ডোলার এই গ্রেপ্তারের ফলে ডি-কো ম্পা নির আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • একটি কুরিয়ার পার্সেল অর্ডার করার সূত্র ধরে ইস্তাম্বুল থেকে ধরা পড়েন মাদক সম্রাট সেলিম ডোলা।
  • তার কাছ থেকে বুলগেরিয়া ও ভারতের তিনটি ভুয়া পাসপোর্ট জব্দ করেছে তুরস্ক পুলিশ।
  • তুরস্ককে কেন্দ্র করে তিনি বিশ্বব্যাপী সিন্থেটিক ড্রাগের বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
  • কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতায় তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *