দুর্নীতির ছোঁয়াচ এড়াতে নবান্নে শুদ্ধিকরণ! পার্থর ঘরে পুজো বিশালের, চেয়ার বদলালেন পূর্ণিমা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর নবান্নে নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব চিত্র সামনে এল। প্রাক্তন মন্ত্রীদের দুর্নীতির ‘কুনজর’ এবং ‘ছোঁয়াচ’ এড়াতে নতুন মন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরে রীতিমতো শুদ্ধিকরণ ও পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন।
পার্থর ঘরে বিশালের পুজো
স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে নবান্নের প্রথম তলার ১০১ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ করা হয়। ঘটনাচক্রে এই ঘরেই একসময় বসতেন নিয়োগ দুর্নীতিতে কারাবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই তথ্য জানতে পেরেই প্রতিমন্ত্রী ঘরটির শুদ্ধিকরণের সিদ্ধান্ত নেন। নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের আগে তিনি রীতিমতো গঙ্গাজল ছিটিয়ে এবং পূজার্চনা করে তবেই ঘরে প্রবেশ করেন। তাঁর মতে, যে কোনও শুভ কাজ শুরুর আগে এই ধরনের ধর্মাচরণ একটি স্বাভাবিক রীতি।
চেয়ার বদলালেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী
একইভাবে দুর্নীতির ছায়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে তৎপর তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তরের নতুন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। নবান্নে তাঁর জন্য বরাদ্দ ঘরে এর আগে বসতেন পর্যটন দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, যাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ও এফআইআর দায়ের হয়েছে। ঘরে প্রবেশ করেই পূর্বসূরির ব্যবহৃত চেয়ারটি বদলানোর কড়া নির্দেশ দেন তিনি। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, কলঙ্কিত কারও ব্যবহৃত চেয়ারে তিনি বসবেন না।
নবান্নের অন্দরের এই ঘটনাগুলি একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, পূর্বতন মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে নতুন মন্ত্রীরা নিজেদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে চাইছেন। এই ‘শুদ্ধিকরণ’ ও আসবাব পরিবর্তনের ঘটনা মূলত জনমানসে একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রতীকী প্রচেষ্টা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই যাবে যে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা পূর্বের কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত পথে প্রশাসন পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।
