দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে কি ফিরবে ভাগ্য? ভোট শেষে চিন্তার ভাঁজ পদ্ম শিবিরে, দিল্লিতে রিপোর্ট তলব শাহের!

রাজ্যের সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও গেরুয়া শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি কাটছে না। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের এই আসনগুলোতে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০২১ সালের নির্বাচনে ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল একাই ১২৩টি আসন দখল করেছিল, যেখানে বিজেপি আটকে গিয়েছিল মাত্র ১৮টিতে। এবার সেই খরা কাটিয়ে গেরুয়া শিবির কতটা এগোতে পারবে, তা নিয়ে খোদ দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে সংশয়।
ভোটের সমীকরণ ও শক্তিক্ষয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত কিছু এলাকা বাদ দিলে বাকি জেলাগুলোতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বেশ দুর্বল। গত লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলের ২৭টি আসনে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও বিধানসভার নিরিখে লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট এবং বামেদের ভোটব্যাংক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বিজেপির জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, গতবার বামেদের থেকে যে ভোট বিজেপির ঝুলিতে এসেছিল, এবার তার বড় অংশই ফের কাস্তে-হাতুড়ি শিবিরে ফিরতে পারে, যা পরোক্ষভাবে তৃণমূলকেই সুবিধা দেবে।
নেতৃত্বের সক্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় নজরদারি
ভোট মিটতেই রাজ্য নেতাদের কাছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনঘন ফোন আসা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বা অর্জুন সিংয়ের মতো হাতেগোনা কয়েকজন নেতাকে ময়দানে সক্রিয় দেখা গেলেও, অধিকাংশ আসনেই প্রার্থীদের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন যে মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিয়েছে, তবুও ডায়মন্ড হারবারের ফলতার মতো কিছু জায়গায় কারচুপির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যের এই অঞ্চলে আসন বাড়ানোই এখন বিজেপির কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ১৪২টি আসনের মধ্যে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৮টি আসন।
- নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা বাদে বাকি জেলাগুলোতে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট।
- রামে যাওয়া বাম ভোট পুনরায় বামেদের ঘরে ফেরার আশঙ্কায় চিন্তিত বিজেপি নেতৃত্ব।
- ফলতার বুথে কারচুপির অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
