ধর্মের ভিত্তিতে ভাতায় এবার সরাসরি ‘না’ রাজ্যের, একঝটকায় বন্ধ হচ্ছে একাধিক সরকারি প্রকল্প – এবেলা

ধর্মের ভিত্তিতে ভাতায় এবার সরাসরি ‘না’ রাজ্যের, একঝটকায় বন্ধ হচ্ছে একাধিক সরকারি প্রকল্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে মসনদ বদলের পর মাত্র ১০ দিনের মাথায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নবগঠিত বিজেপি সরকার। সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে আর কোনও বাড়তি সুবিধা বা ভাতা দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে আগামী মাস অর্থাৎ জুন থেকেই প্রয়োজন ও মেধার ভিত্তিতে সরকারি প্রকল্প পরিচালনা করা হবে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া পড়ুয়া থেকে শুরু করে ধর্মগুরুদের একাধিক জনপ্রিয় প্রকল্প এবার বন্ধের মুখে।

নয়া সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সরকারের যুক্তি

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো তোষণ রাজনীতির অবসান ঘটানো এবং সরকারি কোষাগারের অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। নতুন নীতি অনুযায়ী, ধর্মের পরিচয় দেখে নয়, বরং আর্থিক পরিস্থিতি এবং যোগ্যতার নিরিখে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। তবে সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্যের একটি বড় অংশের উপভোক্তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বন্ধের তালিকায় থাকা প্রধান প্রকল্পসমূহ

পূর্বতন সরকারের চালু করা যে সমস্ত আর্থিক সহায়তা প্রকল্প আগামী মাস থেকে পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে, তার তালিকা বেশ দীর্ঘ।

  • ঐক্যশ্রী প্রকল্প: রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও পার্সি) মেধাবী পড়ুয়াদের প্রথম শ্রেণি থেকে পিএইচডি এবং পেশাদার কোর্স পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, তা এবার বন্ধ হচ্ছে।
  • পুরোহিত ও ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা: ধর্মগুরুদের জন্য চালু থাকা মাসিক আর্থিক সাহায্য প্রকল্প দুটিও বাতিল করা হয়েছে। ফলে পুরোহিতদের মাসিক ২০০০ টাকা এবং ইমাম-মোয়াজ্জেমদের দেওয়া মাসিক ২০০০ টাকার অনুদান আর মিলবে না।
  • ওয়েসিস ও জাকাত স্কলারশিপ: তফশিলি জাতি, উপজাতি ও অভাবী মুসলিম পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তাকারী এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের ভাতাও বন্ধের তালিকায় রয়েছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালনায় বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দরিদ্র পড়ুয়ারা আচমকা এই স্কলারশিপগুলো বন্ধ হওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি তহবিলের সাশ্রয় হবে এবং তা সামগ্রিক উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে মেধার ভিত্তিতে নতুন কোনও বিকল্প প্রকল্প আনা হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *