‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে রণবীরের হয়ে মুখ খুললেন প্রকাশ পাড়ুকোন, ধ্রুব রাঠির কড়া সমালোচনা কি তবেই লক্ষ্য?

সিনেমার রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে সরগরম নেটপাড়া: ধ্রুব রাঠির সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন রণবীর ও প্রকাশ পাড়ুকোন
বলিউডের সিনেমা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত বিনোদন জগতের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রণবীর সিং অভিনীত সিনেমাকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির করা কড়া মন্তব্যের বিপরীতে এবার অভিনব কায়দায় জবাব দিলেন অভিনেতা এবং তাঁর শ্বশুর প্রকাশ পাড়ুকোন। একটি বিজ্ঞাপনী ভিডিওর মাধ্যমে এই দ্বৈরথ এখন নেটদুনিয়ায় নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
রাঠির তোপ ও ‘প্রোপাগান্ডা’ বিতর্ক
গত ডিসেম্বর মাস থেকেই আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটিকে ‘বিজেপির প্রোপাগান্ডা’ বলে আক্রমণ করে আসছেন ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি। সিনেমার সিক্যুয়েল মুক্তির পরও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পরিচালককে ‘বিজেপির চাটুকার’ বলে কটাক্ষ করেন। ইউটিউবারের দাবি, সিনেমার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি আসলে ভোটের আগে বিজেপির এক অত্যন্ত ব্যয়বহুল নির্বাচনী বিজ্ঞাপন। বিশেষ করে নোটবন্দির মতো ইস্যুকে সিনেমায় মহিমান্বিত করা নিয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
বিজ্ঞাপনী ভিডিওতে কি তবে পালটা আঘাত?
সম্প্রতি রণবীর সিং এবং বিখ্যাত শাটলার প্রকাশ পাড়ুকোনের একটি বিজ্ঞাপনী ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওটিতে মজার ছলে দুজনকে খুনসুটিতে মাততে দেখা যাচ্ছে। তবে নেটিজেনদের নজর আটকেছে ভিডিওর একটি দৃশ্যে। সেখানে পর্দার ওপর একটি সিনেমার পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যার নাম ‘বাভান্ডর: দ্য টর্নেডো’।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি নিছক কাকতালীয় নয়। কারণ ধ্রুব রাঠি তার ভিডিওগুলোতে ‘অপারেশন বাভান্ডর’ নামক একটি কাল্পনিক চরিত্রের উল্লেখ করতেন। অনুরাগীদের ধারণা, ইউটিউবারের সেই সমালোচনামূলক ভিডিওর প্রেক্ষিতেই এই কৌশলী উত্তর দিয়েছেন রণবীর এবং প্রকাশ পাড়ুকোন। নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, “এর থেকে সংযত এবং বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে ইউটিউবারকে জবাব দেওয়া সম্ভব ছিল না।”
রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নাকি বিনোদন?
চলচ্চিত্র নিয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই নতুন নয়। ধ্রুব রাঠির মতে, দর্শককে বিভ্রান্ত করতে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের প্রচার করতেই বর্তমানে সিনেমার গল্পকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তারকাদের এই কৌশলী জবাব বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সমালোচনার বিপরীতে তারাও নীরবে কিন্তু বেশ গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টিকে দেখছেন। রণবীর ও প্রকাশ পাড়ুকোনের এই ভিডিও ক্লিপ শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিস্তর কাটাছেঁড়া।
এক ঝলকে
- বিতর্কের সূত্রপাত: আদিত্য ধরের সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ এবং এর সিক্যুয়েলকে ‘বিজেপির প্রোপাগান্ডা’ ও ‘নির্বাচনী বিজ্ঞাপন’ বলে দাবি করেন ধ্রুব রাঠি।
- রাঠির সমালোচনা: ইউটিউবারের মতে, নোটবন্দির মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে সিনেমায় মহিমান্বিত করা হয়েছে, যা আমজনতার আবেগের সাথে উপহাস।
- পালটা পদক্ষেপ: রণবীর সিং এবং প্রকাশ পাড়ুকোনের একটি বিজ্ঞাপনী ভিডিওতে ‘বাভান্ডর: দ্য টর্নেডো’ নামে একটি সিনেমার পোস্টার দেখানো হয়েছে।
- নেটিজেনদের মত: রাঠির ব্যবহৃত শব্দবন্ধ ‘বাভান্ডর’ ব্যবহার করেই এই বিজ্ঞাপনে তাঁকে বিদ্রূপ করা হয়েছে বলে মনে করছেন নেটপাড়ার বড় একটা অংশ।
