বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, হাতছাড়া হতে পারে প্রতীক ও তহবিল – এবেলা

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, হাতছাড়া হতে পারে প্রতীক ও তহবিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিদ্রোহ এবার জাতীয় স্তরেও বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে। রাজ্যের পরিষদীয় দলের পর এবার দিল্লির সংসদীয় দলেও ব্যাপক ভাঙন অবধারিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লোকসভার দুই-তৃতাংশ সাংসদ দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দলের অস্তিত্ব এবং প্রতীক রক্ষা নিয়েই এখন বড়সড় টানাটানি শুরু হয়েছে।

ভাঙনের মুখে সংসদীয় দল

রাজনৈতিক সূত্রে খবর, এ রাজ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের যে অংশটি সরব হয়েছিল, এবার দিল্লিতেও সেই একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে চলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ লোকসভার সিংহভাগ সাংসদ। আইন অনুযায়ী, লোকসভার দুই-তৃতাংশ সাংসদ যদি একসঙ্গে দল ত্যাগ করেন, তবে তাঁদের ওপর দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পরিষদীয় ও সংসদীয় দলের সিংহভাগ অংশ যদি দলনেত্রীর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে নতুন শিবিরের হাত মেলায়, তবে কি দলের মূল নাম, প্রতীক এবং তহবিলের মালিকানা মমতার হাতছাড়া হতে চলেছে?

প্রতীক ও তহবিল দখলের আইনি নিয়ম

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, শুধু সাংসদ বা বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই কোনো অংশ নিজেকে ‘আসল দল’ হিসেবে দাবি করতে পারে না। এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

  • কমিশনে আবেদন: বিদ্রোহী শিবিরকে নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন জানাতে হবে। প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে সাংসদ, বিধায়ক এবং দলের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদের লিখিত সমর্থনের চিঠি।
  • কমিশনের ভূমিকা ও ফ্রিজ হওয়ার আশঙ্কা: আবেদন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সাংসদ ও বিধায়কদের পাশাপাশি সংগঠনের সব স্তরের পদাধিকারীদের মতামত যাচাই করবে। যে পক্ষের দিকে সর্বাধিক সমর্থন থাকবে, তারাই দলের নাম, প্রতীক ও তহবিলের চাবি পাবে। তবে কোনো কারণে যদি তাৎক্ষণিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করা না যায়, সেক্ষেত্রে কমিশন মূল দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করে দিতে পারে। তখন উভয় পক্ষকেই নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামতে হবে এবং দলীয় তহবিল আনুপাতিক হারে বিভক্ত হবে।

চরম সংকটে কালীঘাট

বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ‘নতুন’পন্থী বা বিদ্রোহীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আগামী দিনে সংসদীয় দলেও সেই একই ট্রেন্ড দেখা যেতে পারে। এদিকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ায়, এই মুহূর্তে সংগঠনের কাঠামোতে কার দিকে বেশি সমর্থন রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ফলে এই লড়াই যদি নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়, তবে আইনি মারপ্যাঁচে নতুন বা বিদ্রোহী শিবির কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার সুযোগও থাকছে দুই পক্ষের সামনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *