স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই অপমানিত শ্রীলেখা, গ্রেপ্তারির পর টলিপাড়ায় ফাঁস টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরের সত্য – এবেলা

স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই অপমানিত শ্রীলেখা, গ্রেপ্তারির পর টলিপাড়ায় ফাঁস টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরের সত্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টলিউডের তরুণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুর পর টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আয়োজিত এক বৈঠক থেকে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাওয়ার নেপথ্য কাহিনি অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হতেই টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ক্ষমতার রাজনীতির অন্দরমহল নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক ও জয়রাজ ভট্টাচার্য। ঘটনার প্রায় দু’মাস পর জানা গেল, সেদিনের বৈঠকে প্রভাবশালী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধেই চরম অপমান সহ্য করতে হয়েছিল শ্রীলেখাকে।

গত ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শুটিংয়ের নিরাপত্তা ও কর্মবিরতি নিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। সেই বৈঠকেই স্বরূপ বিশ্বাসের একাধিপত্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি স্পষ্ট জানতে চেয়েছিলেন, যে অব্যবস্থার কারণে রাহুলের মৃত্যু হলো, সেই ব্যবস্থার মূল সুবিধাভোগী স্বরূপ বিশ্বাসকে সামনে রেখে কীভাবে বিচার পাওয়া সম্ভব? এই যৌক্তিক প্রশ্ন তোলার পরেই বৈঠকে উপস্থিত কিছু প্রভাবশালী সদস্য শ্রীলেখার ওপর চড়াও হন এবং তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, চরম অপমানের মুখে কাঁদতে কাঁদতে স্টুডিও ছাড়তে বাধ্য হন এই জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী।

ক্ষমতার দাপট ও ইন্ডাস্ট্রির কোণঠাসা রাজনীতি

অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকের সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে জানা যায়, স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে তাঁর কাজের সমালোচনা করার পর কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি শ্রীলেখার বিরোধিতা শুরু করেন। এই ব্যক্তিরা বাইরে রাজনৈতিক বিরোধিতার কথা বললেও ভেতরে ভেতরের প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেন। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ক্ষমতা কাঠামোর এতটাই দাপট ছিল যে, ভিন্ন মত পোষণ করলেই শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা হতো। অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্যও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণের কারণেই সে সময় শ্রীলেখার তোলা অত্যন্ত জরুরি প্রশ্নটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

টলিউডে পরিবর্তনের হাওয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি টলিপাড়ার ক্ষমতার সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঋদ্ধি সেন, সোহান বন্দ্যোপাধ্যায়, মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক কলাকুশলী এখন প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। শ্রীলেখা মিত্রের সাথে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের ভয়ের পরিবেশ কাটতে শুরু করেছে। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে টলিপাড়ার পেশাদার পরিবেশ ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অবদমিত ক্ষোভ প্রকাশের এই ধারা টলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *