তৃণমূলের অবসান যত দ্রুত হবে বাংলার মঙ্গল ততই, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

তৃণমূলের অবসান যত দ্রুত হবে বাংলার মঙ্গল ততই, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার চাঁচাছোলা ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার এক বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটি এবার নিশ্চিতভাবে ভেঙে পড়বে। দলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, যত তাড়াতাড়ি তৃণমূলের অবসান হবে, ততই রাজ্যের মঙ্গল। তাঁর দাবি, দলের ভেতরে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও প্রকট রূপ ধারণ করবে এবং এই তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটই শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের পতনের মূল কারণ হয়ে উঠবে।

দলীয় কোন্দলকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ আরও জানান, তৃণমূলের অন্দরের এই নাটক বেশিদিন স্থায়ী হবে না। দলের এক বিশাল সংখ্যক বিধায়ক এখন শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অসন্তুষ্ট এবং সেই ক্ষোভই এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। শাসকদলের এই চরম ডামাডোলের আবহেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়েও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন তিনি। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে দাবি করে তিনি জানান, এতদিন মানুষ ভয়ে মুখ না খুললেও, পরিস্থিতি বদলাতেই এখন সাধারণ মানুষ নিজে থেকে সামনে এসে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। আগামী দিনে এই ঘটনায় আরও বহু এফআইআর দায়ের হতে চলেছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি ও পাল্টা সিআইডি তদন্ত

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন যে, তাঁদের পাশে এই মুহূর্তে ৫৮ জন বিধায়কের জোরালো সমর্থন রয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে দলীয় নেতৃত্বের পছন্দ করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামও তাঁরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একধাপ এগিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৮তম অধিবেশনে তাঁদের গোষ্ঠীকেই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গত নির্বাচনে ৮০ জনের বেশি বিধায়ক তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক তাঁদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগ করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত নথিপত্রে একাধিক অনিয়ম রয়েছে এবং যে স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ জাল। আর সেই কারণেই পুরো বিষয়টি এখন রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইডি-র তদন্তের আওতায় রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে দলের অন্দরে ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহ ও নতুন গোষ্ঠীর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতির দাবি, অন্যদিকে সিআইডি তদন্ত এবং এর মাঝেই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আইনি লড়াই আগামী দিনে রাজ্যের শাসনব্যবস্থা এবং দলীয় সংগঠনে বড় ধরনের ভাঙন বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *