ধোঁয়ার বদলে বেরোবে জল! কালই উদ্বোধন দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের, জানুন রুট ও সুবিধা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে জুড়তে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ডিজেল বা বিদ্যুতের পর এবার দেশের ট্র্যাকে ছুটবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন ট্রেন। আগামী ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। এই প্রযুক্তির হাত ধরে জার্মানি, চিন ও ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখাল ভারত।
কোন রুটে চলবে এবং সময় কত লাগবে?
- রুট: দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি চলবে হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে।
- স্টেশন ও সময়: মোট ১০টি বগির এই ট্রেনটি ৯০ কিলোমিটারের যাত্রাপথে ১১টি স্টেশনে থামবে। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় দু’ঘণ্টা।
- গতিবেগ: ট্রেনটির সাধারণ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার। তবে সফল ট্রায়াল রানে এটি ১২০ কিলোমিটার বেগেও ছুটেছে।
কী কী বিশেষ সুবিধা থাকছে এই ট্রেনে?
- বিশাল ধারণ ক্ষমতা: ১০টি বগির মধ্যে ৮টি যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে। ট্রেনটিতে একসঙ্গে প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবেন।
- আধুনিক স্বাচ্ছন্দ্য: যাত্রীদের আরামের কথা মাথায় রেখে ট্রেনে স্বয়ংক্রিয় দরজা, ডিসি এয়ার কন্ডিশনিং (AC) এবং অত্যন্ত আরামদায়ক আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- সম্পূর্ণ দূষণহীন: এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় চমক হল এর প্রযুক্তি। চলার সময় এই ট্রেন থেকে কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস বেরোবে না। কার্বন নিঃসরণ হবে কার্যত শূন্য, পরিবর্তে নির্গত হবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প ও সামান্য তাপ।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) তৈরি এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফুয়েল সেল সিস্টেম (নির্মাণ করেছে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস)। ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে উচ্চচাপে হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ করা থাকে। ফুয়েল সেলের ভেতরে এই হাইড্রোজেন ও বাতাসের অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা সরাসরি ট্রেনের মোটরকে শক্তি জোগায়।
নিরাপত্তায় কড়া নজর হাইড্রোজেন গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় সুরক্ষার দিকটিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ট্যাঙ্ক এবং আলাদা রিফুয়েলিং স্টেশন তৈরি করেছে রেল। চূড়ান্ত পরিষেবা শুরুর আগে RDSO-এর কড়া নজরদারিতে ব্রেকিং থেকে কম্পন—সবকিছুর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
