নতুন ব্যবসার জন্য গ্যারান্টি ছাড়াই মিলবে ২০ লক্ষ টাকার ঋণ, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় বড় সুযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশে স্বনির্ভরতা বাড়াতে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৫ সালে চালু হওয়া ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’ (পিএম মুদ্রা যোজনা)-র আওতায় এখন নন-কর্পোরেট ও অ-কৃষি ব্যবসার জন্য কোনো গ্যারান্টি বা শর্ত ছাড়াই ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এই প্রকল্পের ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০ লক্ষ টাকা, যা সম্প্রতি দ্বিগুণ করা হয়েছে। নতুন ব্যবসা শুরু করতে বা পুরনো ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
ঋণের বিভিন্ন বিভাগ ও সুদের হার
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার অধীনে আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য ঋণ প্রদান প্রক্রিয়াকে কয়েকটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ব্যবসায়ের ধরন ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
- শিশু ঋণ: সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
- কিশোর ঋণ: ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- তরুণ ঋণ: ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- তরুণদের ঊর্ধ্বের বিভাগ: ১০ লক্ষ টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া সম্ভব।
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং ক্ষুদ্র আর্থিক ব্যাঙ্কগুলি এই ঋণ প্রদান করে থাকে। প্রকল্পে বার্ষিক সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। ঋণগ্রহীতাদের সুবিধার্থে এই অর্থ পরিশোধ করার জন্য ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। তবে এই ঋণের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক।
আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের অনলাইনে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.mudra.org.in-এ গিয়ে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারী যদি ঋণের যোগ্য বলে বিবেচিত হন, তবে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে ঋণের টাকা সংগ্রহ করা যাবে। আবেদনের সুবিধার্থে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, বসবাসের প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আয়ের প্রমাণপত্র, কেওয়াইসি নথিপত্র এবং একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা বিজনেস প্ল্যান সঙ্গে রাখতে হবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ঋণের সীমা ১০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্তরের ব্যবসায়ীরা বড় পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন স্টার্ট-আপের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশের বাজারে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। গ্যারান্টি ছাড়া ঋণের এই সুবিধা দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বেকারত্ব হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
