বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই বাংলাদেশে ভুয়ো ভিডিওর ছড়াছড়ি, কড়া গোয়েন্দা নজরে ‘চিকেনস নেক’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সীমান্ত পেরিয়ে ওপার বাংলায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভারতবিরোধী হাওয়া। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে একাধিক মৌলবাদী ও কট্টরপন্থী সংগঠন নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। সমাজমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এমনকি ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল ভৌগোলিক অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ দখলের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রচারণায়। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তেজনার কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা
গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গেছে, কাশ্মীরের একটি মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। যদিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভারতে মুসলিম নির্যাতনের কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই, তবুও এই অপপ্রচার থামেনি। এই উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের সীমান্ত নীতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বিএসএফের হাতে সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে জমিজট থাকায় যে কাজ আটকে ছিল, তা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার এই সিদ্ধান্তই ওপার বাংলার অনুপ্রবেশকারী ও চোরাচালানকারীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ।
নিরাপত্তা বলয়ে শিলিগুড়ি করিডর ও সম্ভাব্য প্রভাব
শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র স্থলপথ। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন পরিবেষ্টিত এই ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত করিডরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্তে অত্যাধুনিক নজরদারি ক্যামেরা, উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা এবং নতুন ডিজাইনের বেড়া বসানোর ফলে অনুপ্রবেশ ও মাদক, অস্ত্র বা জাল নোটের চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার মুখে। ভারতকে দুর্বল করতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি এই করিডরকে কুনজরে রাখায় কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘চিকেনস নেক’ রক্ষায় এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও রাশিয়ার তৈরি সারফেস টু এয়ার মিসাইল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিহারের কিশনগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এবং আসামের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনিতে তিনটি সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে ভারতীয় সেনা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পাশাপাশি ওপার বাংলাতেও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
