দিল্লিতে এবার বেসরকারি সংস্থাতেও সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ, নজিরবিহীন পদক্ষেপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জ্বালানির অপচয় রোধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বড়সড় পদক্ষেপ করল দিল্লি সরকার। সরকারি কর্মচারীদের পর এবার দিল্লির সমস্ত বেসরকারি সংস্থাকেও সপ্তাহে অন্তত দু’দিন কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা করার জোরালো আর্জি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তার পরই এই বিষয়ে তৎপরতা শুরু হয়। দিল্লির পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ সরকারও রাজ্যের বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলিতে সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজের নীতি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয় ও যানজট নিয়ন্ত্রণ
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের সরকার ইতিমধ্যে সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে দু’দিন করে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ বৈঠক এখন থেকে অনলাইনেই সম্পন্ন হবে। এর ফলে সরকারি কর্মীদের যাতায়াত কমবে, যা সরাসরি জ্বালানি খরচ এবং রাস্তার যানজট কমাতে সাহায্য করবে। যানজট আরও নিয়ন্ত্রণে আনতে অফিসগুলোর সময়সূচিতেও বদল করা হচ্ছে, যেখানে দিল্লি সরকার ও দিল্লি পুরসভা আলাদা আলাদা সময়সূচি অনুসরণ করবে। সরকারি স্তরে এই নিয়ম চালুর পর এবার দিল্লির সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা, দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে আইটি সংস্থাগুলিকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে শ্রম দপ্তর। তবে হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
৯টি ৯০ দিনের বিশেষ অভিযান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
জ্বালানি সাশ্রয়ের এই মহৎ উদ্দেশ্যকে সফল করতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ নামে ৯০ দিনের একটি বিশেষ অভিযানের সূচনা করেছেন। এই অভিযানের পরিধিতে বেসরকারি ক্ষেত্রগুলিকেও আনা হচ্ছে এবং শ্রম দপ্তর কড়া নজর রাখবে যাতে নির্দেশিকাটি পালিত হয়। এর পাশাপাশি দিল্লি সরকার আগামী এক বছর মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করেছে এবং আগামী তিন মাস কোনও বড় অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন অপরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে, তেমনই গণপরিবহণ ও ‘কারপুল’ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় শহরের বায়ুদূষণ ও যানবাহনের চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
