সময় ফুরিয়ে আসার আলটিমেটাম দিয়ে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক শান্তি ফিরলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা আবার চরম রূপ নিতে শুরু করেছে। একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তেহরানকে নরম সুরে পাঁচটি শর্ত দিলেও, ইরানের নীরবতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের হাতে সময় খুবই কম এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে পরে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
আপাতত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সম্প্রতি ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ’-এ এক বার্তায় লেখেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এই মুহূর্তে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রাক্কালে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বর্তমান বার্তাতেও সেই একই হুমকির সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
আমেরিকার পাঁচ শর্ত এবং রণকৌশল
স্থায়ী সমঝোতার জন্য আমেরিকার দেওয়া পাঁচটি শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো, ইরান কেবল একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখতে পারবে। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ইরানের দাবি করা অর্থ আমেরিকা কোনোভাবেই দেবে না। শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে এবং এর বিনিময়ে আমেরিকা তাদের বাজেয়াপ্ত করা ইরানি বৈদেশিক সম্পদের ২৫ শতাংশ ফেরত দেবে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এই শর্ত নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের নিজস্ব কিছু দাবিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যত এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।
নতুন হামলার আশঙ্কা
ইরানের এই নীরবতা এবং মার্কিন অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরবর্তী যৌথ রণকৌশল নির্ধারণ করা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি আমেরিকার দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের মাটিতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
