নববর্ষের মিষ্টিতে যুদ্ধের আঁচ, পকেটে ছ্যাঁকা খেলেন মধ্যবিত্ত!

নববর্ষের মুখে মিষ্টির দামের ছ্যাঁকা, মধ্যবিত্তের পাতে কমছে আকৃতি ও স্বাদ
পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন জামাকাপড় আর মিষ্টিমুখের উৎসব। নববর্ষের সকালে বাঙালি বাড়িতে মিষ্টি ছাড়া দিনটি আসাম্পূর্ণ। কিন্তু এবার চড়া দামের কারণে অনেকের কাছেই নববর্ষের মিষ্টি কিছুটা ‘তেতো’ মনে হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারে জ্বালানি থেকে পণ্য পরিবহন—সবকিছুর খরচই উর্ধ্বমুখী। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্যের মিষ্টির দোকানগুলোতে।
জ্বালানি সংকটে নাজেহাল মিষ্টিশিল্প
মিষ্টি তৈরির প্রধান জ্বালানি হলো এলপিজি গ্যাস। গত কয়েক মাসে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় মিষ্টির উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। শহরের নামী মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে মফস্বলের ছোট দোকান—সবখানেই একই চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্যাসের দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী হালখাতার বিশাল অর্ডার নিতেও সাহস পাননি।
প্যাকেজিং খরচ ও সরবরাহের জটিলতা
শুধুমাত্র কাঁচামাল বা গ্যাস নয়, মিষ্টির প্যাকেজিং খরচেও লেগেছে আগুন। পলিমারের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মিষ্টির বাক্স বা মোড়ক তৈরি করতে দোকানদারদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় এলপিজি প্রাপ্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না। এসব পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে মিষ্টির দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
আয়তনে ছোট হচ্ছে মিষ্টি, বাড়ছে দাম
ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে ব্যবসায়ীরা এখন এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করছেন। মিষ্টির দাম খুব বেশি না বাড়িয়ে অনেক দোকান মিষ্টির আকার বা সাইজ কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমান বাজারে মিষ্টির দামের পরিবর্তনের একটি খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
- ১০ টাকার মিষ্টির বর্তমান দাম ১৫ টাকা।
- ১২ টাকার মিষ্টির দাম বেড়ে হয়েছে ১৫ বা তার বেশি।
- মাঝারি ধরনের প্রতিটি মিষ্টির দামে গড়ে অন্তত ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
- অনেক ক্ষেত্রেই দাম অপরিবর্তিত রেখে মিষ্টির ওজনে কাটছাঁট করা হচ্ছে।
উৎপাদন খরচ না কমাতে পেরে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েই দাম বাড়িয়েছেন। এর ফলে গত কয়েকদিনে খুচরো বিক্রিতেও ভাটা পড়েছে। সাধারণ ক্রেতারাও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে বাজেটে টান পড়ায় কেনার পরিমাণের ওপর রাশ টেনেছেন অনেকেই। নববর্ষের সকালে মিষ্টির দোকানে চিরচেনা ভিড় থাকলেও, দামের এই ছ্যাঁকা মধ্যবিত্তের মনে একরাশ অস্বস্তি তৈরি করেছে।
এক ঝলকে:
- মূল কারণ: পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির ফলে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি।
- বৃদ্ধির হার: মিষ্টির আইটেমভেদে দাম বেড়েছে ৫% থেকে ১০%।
- প্যাকেজিং: পলিমারের দাম বাড়ায় মোড়কের খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০%।
- ব্যবসায়ীদের কৌশল: দাম বাড়ানোর পাশাপাশি মিষ্টির আকার বা সাইজ ছোট করা হয়েছে।
- প্রভাব: নিত্যনতুন দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মিষ্টি কেনার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
