নবান্নের লড়াইয়ে স্নায়ুচাপ: পরিবর্তনের ঢেউ নাকি প্রত্যাবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া?

নবান্নের লড়াইয়ে স্নায়ুচাপ: পরিবর্তনের ঢেউ নাকি প্রত্যাবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণী রুদ্ধশ্বাস সোমবার শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ২৯৩টি আসনে (ফলতা বাদে) শুরু হওয়া ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড বা প্রবণতা অনুযায়ী, লড়াই এখন ‘কাঁটে কি টক্কর’। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার বা ‘হ্যাট্রিক প্লাস’ প্রত্যাশা, অন্যদিকে দেড় দশকের বাম-তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির প্রথমবার বাংলার মসনদ দখলের স্বপ্ন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কাঁপছে গোটা বঙ্গভূমি।

প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে পদ্মশিবির, ধাওয়া করছে ঘাসফুল

ভোটগণনার প্রথম দুই ঘণ্টায় পাওয়া খবর অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম গণনার প্রাথমিক রাউন্ডগুলোতে বিজেপি তৃণমূলের তুলনায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে এই ব্যবধান এতটাই নগণ্য যে যেকোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ইভিএম খোলা শুরু হলে তৃণমূলের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রভাব ফলাফলে প্রতিফলিত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বড় বাজি: ভবানীপুর ও অন্যান্য সমীকরণ

সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রাথমিক কিছু খবরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কেন্দ্রে পিছিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও গণনার রাউন্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এছাড়া এবারের নির্বাচনে ৯২.৪৭ শতাংশের রেকর্ড ভোটদান এবং প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ার প্রভাব কার পক্ষে যাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিরোধীদের উপস্থিতি ও ফ্যাক্টর ফলতা

বিজেপি ও তৃণমূলের দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটও এবার তরুণ মুখদের ওপর ভর করে জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটব্যাঙ্কে আইএসএফ-এর থাবা বসানো অনেক হেভিওয়েট কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ফলতা আসনে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল করায় সেখানে আগামী ২১ মে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আজ ২৯৩টি আসনের প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বাংলার পরবর্তী শাসক কে হতে চলেছেন।

দুপুরের মধ্যেই বড় কেন্দ্রগুলোর চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং বিকেলের দিকে স্পষ্ট হবে আগামীর পশ্চিমবঙ্গ কার দখলে। আপাতত উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে বাংলার মানুষ তাকিয়ে আছে গণনাকেন্দ্রগুলোর লাইভ আপডেটের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *