নয়ডা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ, ধৃত দুই অভিযুক্তকে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ – এবেলা

নয়ডা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ, ধৃত দুই অভিযুক্তকে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়ডায় শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গত ১৩ এপ্রিল শিল্প শ্রমিকদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্ত, আদিত্য আনন্দ এবং রূপেশ রাইকে সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১৮ মে দুপুর দুটোর মধ্যে ওই দুই অভিযুক্তকে আদালতের সমক্ষে পেশ করতে হবে।

আদিত্য আনন্দের ভাই কেশব আনন্দের দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গ্রেফতারের পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ হেফাজতে আদিত্যর ওপর নির্মম নির্যাতন ও হিংসা চালিয়েছে। আদিত্যর পক্ষে আইনজীবী কলিন গনসালভেস আদালতে সওয়াল করেন, তাঁর মক্কেল মূলত একজন ফ্যাক্টরি ইঞ্জিনিয়ার এবং শিশুদের জন্য একটি লাইব্রেরিও চালাতেন। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা নিয়েই আদিত্য বক্তব্য রেখেছিলেন যার রেকর্ড রয়েছে দাবি করে এই ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান তিনি। যদিও উত্তরপ্রদেশ সরকারের আইনজীবী হেফাজতে নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, আইন মেনেই গ্রেফতারি করা হয়েছে।

বিদেশী আর্থিক মদত ও রাষ্ট্ৰীয় নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ

এই ঘটনার জল আরও গড়িয়েছে যখন উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই মামলায় জড়িত থাকা ছাত্র কর্মী আকৃতি চৌধুরী এবং সাংবাদিক সত্যম বর্মার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ), ১৯৮০ প্রয়োগ করে। পুলিশের দাবি, ধৃত সাংবাদিক সত্যম বর্মার ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে ডলার, পাউন্ড ও ইউরো মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ জমা পড়েছে, যা পরবর্তীতে তিনি অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। এই বিপুল পরিমাণ বিদেশী অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

বামপন্থী সংগঠনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, সত্যম বর্মা এবং গত ১৯ এপ্রিল লখনউ থেকে গ্রেফতার হওয়া হিমাংশু ঠাকুর দুজনেই বামপন্থী শ্রমিক অধিকার সংগঠন ‘বিগুল মজদুর দস্তা’-র সক্রিয় সদস্য। আকৃতি চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁরা শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং জনজীবন বিপর্যস্ত করার ছক কষেছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

এই ঘটনার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা বিদেশী আর্থিক মদতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া হস্তক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন পুলিশি হেফাজতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা সামনে আসবে, অন্যদিকে শ্রমিক আন্দোলনের নামে চলা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আসল রূপটিও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *