নারী শক্তির জয় ও বুলডোজার রাজনীতির পরাজয় দাবি জয়রাম রমেশের

নারী শক্তির জয় ও বুলডোজার রাজনীতির পরাজয় দাবি জয়রাম রমেশের

মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘পরিবেষ্টন’ (Delimitation) প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়াকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করেছে জাতীয় কংগ্রেস। সোমবার এক কড়া বিবৃতিতে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ দাবি করেন, এটি আসলে সরকারের ‘অশুভ’ মনোভঙ্গি এবং ‘বুলডোজার রাজনীতির’ নৈতিক পরাজয়।

মোদী সরকারের কৌশলী এজেন্ডা ও কংগ্রেসের সমালোচনা

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সরকারের মূল লক্ষ্য নারী ক্ষমতায়ন নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গদি রক্ষা করা। জয়রাম রমেশের মতে, নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকার তড়িঘড়ি আসন পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছিল, যা আদতে সংবিধান ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের নারীরা বিজেপির এই প্রচারের ফাঁদে পা দেবেন না, কারণ তাঁরা জানেন এই বিলের পেছনে শাসক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে।

বিল পাসের ব্যর্থতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

সম্প্রতি লোকসভায় ‘সংবিধান (১৩১তম) সংশোধন বিল ২০২৬’ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় পাস হতে পারেনি। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। এই বিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল ২০২৬’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল ২০২৬’, যা বর্তমানে স্থগিত হয়ে গেছে। কংগ্রেসের দাবি, সরকার ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে এটি কার্যকর করার বিরোধী দলের প্রস্তাবকে উপেক্ষা করেছিল এবং প্রায় ৩০ মাস এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ ১৬ এপ্রিল রাতে এটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে।

কংগ্রেসের দাবি ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা

জাতীয় কংগ্রেস কেন্দ্র সরকারের কাছে নতুন করে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে:

  • বর্তমান লোকসভা আসনের ভিত্তিতেই অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হবে।
  • প্রয়োজনে মে মাসের শেষে বা আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনে একটি নতুন সংশোধনী বিল আনতে হবে।
  • জাতিগত আদমশুমারি বা কাস্ট সেন্সাসকে ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা সরকার করছে, তা বন্ধ করতে হবে।

জয়রাম রমেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আশ্বাসের ওপর প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি সীমানা পুনর্নির্ধারণে কোনও রাজ্যের ক্ষতি না হওয়ার কথা বলা হয়, তবে তা কেন মূল বিলের অংশ ছিল না? কংগ্রেস মনে করে, সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে ২০২৯ সালের নির্বাচনের পরিবর্তে আরও আগেই মহিলারা তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান।

একঝলকে

  • মহিলা সংরক্ষণ বিলের ব্যর্থতাকে সংবিধানের জয় হিসেবে দেখছে কংগ্রেস।
  • সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাকে ‘নাপাক’ বলে মন্তব্য।
  • বর্তমান আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি।
  • ২০২৬-এর সংশোধনী বিলটি লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পাওয়ায় বাতিল হয়েছে।
  • সরকারকে বর্ষাকালীন অধিবেশনে নতুন বিল আনার আহ্বান জয়রাম রমেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *