বেশি মাউথওয়াশ ব্যবহারের অভ্যাস ডেকে আনছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

বেশি মাউথওয়াশ ব্যবহারের অভ্যাস ডেকে আনছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে বা সতেজ থাকতে অনেকেই নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারের ফলে শরীরে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাউথওয়াশ ও উচ্চ রক্তচাপের যোগসূত্র

আমাদের মুখে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া বাস করে, যার মধ্যে সবকটিই ক্ষতিকারক নয়। কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ তৈরি করতে সাহায্য করে। এই নাইট্রিক অক্সাইড মূলত আমাদের রক্তনালীগুলোকে শিথিল বা রিল্যাক্স রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রচলিত তীব্র অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশগুলো ব্যবহারের সময় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও ধ্বংস করে ফেলে। ফলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কমে যায় এবং রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সব মাউথওয়াশ কি সমান ক্ষতিকর

গবেষণা বলছে, সব ধরনের মাউথওয়াশ সরাসরি ক্ষতির কারণ না-ও হতে পারে। বিপদের মূল কারণ হলো মাউথওয়াশে থাকা তীব্র রাসায়নিক উপাদান এবং এর ব্যবহারের মাত্রা। যারা ফ্যাশন বা অভ্যাসবশত দিনে একাধিকবার এটি ব্যবহার করেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সপ্তাহে এক বা দুইবার মাউথওয়াশ ব্যবহারে তেমন বড় কোনো ঝুঁকি নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুখ ও দাঁতের যত্নে নিরাপদ উপায়

ওরাল হেলথ বা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য কেবল মাউথওয়াশের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকরা কিছু বিকল্প এবং কার্যকর অভ্যাসের পরামর্শ দিয়েছেন:

  • নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লসিং: দিনে অন্তত দুইবার সঠিক নিয়মে ব্রাশ করা এবং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করতে ফ্লসিং ব্যবহার করা।
  • জিভ পরিষ্কার রাখা: দাঁতের পাশাপাশি নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
  • পর্যাপ্ত জল পান: শরীর আর্দ্র থাকলে এবং নিয়মিত জল পান করলে প্রাকৃতিকভাবেই মুখ পরিষ্কার থাকে।
  • ডেন্টিস্টের পরামর্শ: মাউথওয়াশ ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বছরে অন্তত একবার নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করানো।

একঝলকে

  • অতিরিক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই বিপি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • মাউথওয়াশ মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে নাইট্রিক অক্সাইডের সরবরাহ কমিয়ে দেয়।
  • তীব্র রাসায়নিকযুক্ত মাউথওয়াশ ঘনঘন ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • মুখের সতেজতায় মাউথওয়াশের চেয়ে নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লসিং বেশি নিরাপদ।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাউথওয়াশ ব্যবহার করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *