নাস্ত্রদামুসের ভবিষ্যৎবাণী হার মানাবে নাসার সুপারকম্পিউটারের এই সতর্কবার্তা!

নাস্ত্রদামুসের ভবিষ্যৎবাণী হার মানাবে নাসার সুপারকম্পিউটারের এই সতর্কবার্তা!

পৃথিবী কি একদিন সত্যিই প্রাণহীন মরুভূমিতে পরিণত হবে? সম্প্রতি নাসার সুপারকম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানী কাজুমি ওজাকি এবং ক্রিস্টোফার রেইনহার্ডের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কোনো গ্রহাণুর আঘাত বা পারমাণবিক যুদ্ধ নয়, বরং সূর্যের ক্রমবর্ধমান উত্তাপই হবে পৃথিবীর প্রাণিকুল ধ্বংসের মূল কারণ। সূর্যের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলীয় ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হতে শুরু করবে।

অক্সিজেন সংকটে বিপন্ন হবে জীবন

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর জীবনধারণের প্রধান ভিত্তি অক্সিজেন চিরকাল থাকবে না। আগে ধারণা করা হতো পৃথিবী আরও ২০০ কোটি বছর প্রাণের উপযোগী থাকবে, কিন্তু নতুন এই মডেলে দেখা যাচ্ছে সেই সময়সীমা কমে মাত্র ১০০ কোটি বছরে দাঁড়িয়েছে। সূর্যের তীব্র তাপে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমে যাবে, যার ফলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে অক্সিজেন উৎপাদনকারী উদ্ভিদ ও ক্ষুদ্র জীবজগত বিলুপ্ত হয়ে পড়বে।

ফিরে আসবে প্রাগৈতিহাসিক পরিবেশ

ভবিষ্যতের সেই চরম পরিস্থিতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের স্তর ১ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। এই অবস্থাটি কোটি কোটি বছর আগের সেই ‘গ্রেট অক্সিডেশন ইভেন্ট’-এর পূর্ববর্তী সময়ের মতো হবে। গবেষকদের মতে, সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে মানুষ বা বড় প্রাণীর টিকে থাকা আসাম্ভব হয়ে পড়বে; কেবল কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়াই তখন টিকে থাকতে পারবে। তবে এই পরিবর্তন আসতে আরও দীর্ঘ সময় বাকি থাকায় মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো অন্য কোনো গ্রহে বসতি স্থাপনের প্রযুক্তি আয়ত্ত করে ফেলবে।

এক ঝলকে

  • নাসার সুপারকম্পিউটার মডেল অনুযায়ী আগামী ১০০ কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবী অক্সিজেনশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • সূর্যের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন উৎপাদনকারী চক্র সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।
  • জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ হারিয়ে পৃথিবী পুনরায় তার আদিম গ্যাসীয় অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
  • বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন এবং সূর্যের প্রাকৃতিক বিবর্তনই এই মহাজাগতিক সংকটের নেপথ্য কারণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *