নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে এবার খোদ এনটিএ আধিকারিকের দিকেই ঘুরল সিবিআইয়ের সন্দেহের তির! – এবেলা
.jpg.webp)
এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের (NEET UG 2026) তদন্তে এবার অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মোড় এল। পরীক্ষা পরিচালন সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ বা এনটিএ-র নিজস্ব আধিকারিকদের একাংশের যোগসাজশেই এই কাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করছে সিবিআই। ধৃত অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা যে সূত্র পেয়েছেন, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘ইনসাইড জব’ বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র। এই ঘটনা দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই এক মস্ত বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তদন্তে উঠে এল অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের জাল
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েছে একের পর এক বড় সূত্র। এই চক্রের অন্যতম দুই মূলহোতা মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে এবং রসায়নের শিক্ষক পি ভি কুলকার্নিকে গ্রেফতারের পর আদালত তাঁদের ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, মনীষা ওয়াঘমারে গত ২৭ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর বেশ কয়েক দিন আগেই রসায়নের শিক্ষক কুলকার্নির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র হাতে পেয়েছিলেন। আর এই কাজে তাঁদের সরাসরি সাহায্য করেছিলেন খোদ এনটিএ-র এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এই আধিকারিকের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে এখনও গোপন রাখা হলেও, সর্ষের মধ্যেই যে ভূত লুকিয়ে রয়েছে, তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।
তদন্তে আরও জানা গেছে, নিটের প্রশ্নপত্র তৈরি বা পেপার সেটিং কমিটির সদস্য তথা জীববিজ্ঞানের শিক্ষক মনীষা মান্ধারে এই চক্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনিই ওয়াঘমারের সঙ্গে কুলকার্নির পরিচয় করিয়ে দেন। কুলকার্নি আসল প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর তা থেকে হাতে লিখে রসায়নের প্রশ্ন তৈরি করে কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং পরে সেই আসল নোটগুলি পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্ট করেন। এই প্রশ্নপত্র এরপর টাকার বিনিময়ে চক্রের অন্য সদস্য ধনঞ্জয় লোখাণ্ডের মাধ্যমে আরও বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে চড়া দামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অপরাধের প্রমাণ মুছতে পরীক্ষা শেষের ঠিক পরেই ৩ মে এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।
ঝুঁকি এড়াতে পুনরায় পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রশ্নফাঁসের এই ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ওপর। উদ্ভূত পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনা করে এনটিএ গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট ২০২৬-এর পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। আগামী ২১ জুন, রবিবার দেশজুড়ে নতুন করে এই মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হবে। এদিকে এই ধরনের জালিয়াতি চিরতরে রুখতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা আর কলম-কাগজে নেওয়া হবে না; প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি কমাতে এটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (CBT) পরীক্ষা হিসেবে পরিচালিত হবে। বর্তমানে একদিকে যেমন সিবিআই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসল অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালাচ্ছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, আগামী ২১ জুনের পরীক্ষা যেন কোনো রকম নতুন জটিলতা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
