নিরাপত্তায় কাটছাঁট নয়, অপচয় বন্ধে নয়া নজির! কনভয় ছোট করে দেশবাসীকে বড় বার্তা মোদীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখেই ব্যক্তিগত উদাহরণ তৈরির লক্ষ্যে তিনি তার বিশাল গাড়িবহরের (কনভয়) আকার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লি সফরের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর এই ছোট গাড়িবহরের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের নজরে এসেছে।
নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ের নতুন সমীকরণ
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপকে (এসপিজি) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ‘ব্লু বুক’ বা নিরাপত্তা বিধি মেনেই গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বহরে মার্সিডিজ-মেব্যাক এস৬৫০ গার্ড, রেঞ্জ রোভার সেন্টিনেলসহ কয়েক ডজন ফরচুনার এবং ল্যান্ড ক্রুজার থাকে। এছাড়া জ্যামার গাড়ি, ডামি কার এবং প্রায় ১০০ জন কমান্ডো সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন। মোদীর নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে বহরের গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যাবে। তবে কমান্ডোদের সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পরিবেশবান্ধব ও মিতব্যয়ী প্রশাসন
প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র গাড়ির সংখ্যা কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি বহরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের অন্তর্ভুক্তির ওপরও জোর দিয়েছেন। তবে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, নতুন গাড়ি কিনে যেন সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো না হয়। এছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য মেট্রো ব্যবহার এবং কার-পুলিং বা গাড়ি শেয়ারিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এবং বড় আয়োজনের ব্যয় কমানোর বিষয়টিও এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা এবং সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও স্বর্ণের ব্যবহার কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের গাড়িবহর ছোট করার মাধ্যমে তিনি কার্যত দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার একটি শক্তিশালী বার্তা দিলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন বৈঠকেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের জ্বালানি খরচ কমানোর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোদীর এই সাহসী পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
