নির্বাচনের পর তুমুল কোন্দলে তৃণমূল, বৈঠক সামলাতে মমতার দাওয়াই ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’ – এবেলা

নির্বাচনের পর তুমুল কোন্দলে তৃণমূল, বৈঠক সামলাতে মমতার দাওয়াই ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন যখন ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, ঠিক তখনই দলের অন্দরের তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এল। খোদ দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন শোরগোল।

পৈঠকের অন্দরে বাকযুদ্ধ ও রদবদলের দাবি

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে বিক্ষুব্ধ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদায় নেওয়ার পর, সেই পদে কুণাল ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে কুণাল ঘোষ এই সাংগঠনিক রদবদল দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘পরে হবে’ বলে মন্তব্য করেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিষেককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “অভিষেক, তুমি আর লেবু কচলে তেতো কোরো না।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা বৈঠক শেষের পরেও অব্যাহত ছিল। এর আগে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে প্রকাশ্যে ব্যঙ্গ করা নিয়েও দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

কোন্দল সামাল দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে আসরে নামতে হয় স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করতে তিনি নিজের পুরনো স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, এখন শান্ত থাকতে হবে।” দলের এই কঠিন সময়ে সবাইকে এক হয়ে এবং মাথা ঠান্ডা করে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

তীব্র সঙ্কটে শাসক শিবির

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়ার দলত্যাগের ঘোষণার পরই এই শীর্ষস্তরের কোন্দল দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার মূল কারণ হলো বিধানসভা নির্বাচনের পর নেতৃত্বের প্রতি নিচুতলা ও মাঝারিতলার একাংশের ক্ষোভ এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনে বিলম্ব। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দলের চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও যেভাবে দলের দ্বিতীয় প্রধান এবং শীর্ষনেতারা প্রকাশ্য কোন্দলে জড়াচ্ছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা—দলের এই ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে মমতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *