নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: মৃত ১৫০ পার, ১৩০+ ভারতীয় তীর্থযাত্রীর খোঁজ মিলছে না! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রকৃতির মারাত্মক রোষের মুখে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। ভয়াবহ হড়পা বানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এখনও নিখোঁজ বহু। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো—নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে নেপাল পর্যটন মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও, ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন সদস্য একটি ইমিগ্রেশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছেন; ওই সেন্টারের কর্মীদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্ষতির মূল কেন্দ্র ও জলচ্ছ্বাসের তীব্রতা তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং ধাদিং জেলা এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল গতিতে পাহাড়ি ঢল ভোতে কোশি নদী হয়ে রাসুয়ার তিমুরে অঞ্চল দিয়ে ত্রিশূলী নদীতে মিশে নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নুয়াকোট, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসি ইস্ট জেলা মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে ৭০ থেকে ২০০ কিলোমিটার এলাকার পরিকাঠামো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ
- ভাঙা সেতু ও রাস্তা: অন্তত ১৯টি যান চলাচলের সেতু জলের তোড়ে ভেসে গেছে। নুয়াকোটের বেত্রাবতী থেকে রাসুয়াগাধি সীমান্ত পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পথ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে।
- বিচ্ছিন্ন এলাকা: একাধিক দুর্গম অঞ্চলে পথঘাট ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। সেখানে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ চালানো হচ্ছে।
- বিদ্যুৎ প্রকল্প: ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
সাহায্য ও জরুরি হেল্পলাইন নেপাল সরকারের পাশাপাশি ভারত সরকারও উদ্ধারকাজে হাত বাড়িয়েছে। আটকে পড়া ও নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারকে তথ্য জানাতে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস ও রাজ্য সরকারগুলি জরুরি হেল্পলাইন চালু করেছে। স্বজনদের সন্ধানে যোগাযোগের নম্বর: +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।
