নোনা জলে ফুটল পদ্ম, সন্দেশখালিতে তছনছ তৃণমূলের দেড় দশকের সাম্রাজ্য

দীর্ঘ দেড় দশকের আধিপত্যে ইতি টেনে সন্দেশখালিতে প্রথমবার ফুটেছে পদ্ম। সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের ‘নোনাধরা’ সাম্রাজ্য কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সর্দারকে ১৭ হাজার ৫১০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সনৎ সরদার। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত হিসেব অনুযায়ী, বিজেপি পেয়েছে ১,০৭,১৮৯ ভোট এবং তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ৮৯,৬৭৯ ভোট। একসময়ের শক্ত ঘাঁটি হওয়া সত্ত্বেও বামেরা নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।
বিদ্রোহের আগুন ও গণরোষের প্রতিফলন
সন্দেশখালির এই রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে। মূলত শেখ শাহজাহান ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, সাধারণ মানুষের চাষের জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে ভেড়ি তৈরি এবং নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগগুলিই এই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে শাহজাহানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে যে গণবিদ্রোহ শুরু হয়েছিল, ইভিএমে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল সুকুমার মাহাতোর বদলে ঝর্না সর্দারকে প্রার্থী করলেও ভোটারদের আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতিতে সন্দেশখালি মডেলের প্রভাব
সন্দেশখালির এই পরিবর্তনের ঢেউ শুধু ওই কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছে পাশের বিধানসভা হিঙ্গলগঞ্জেও। সেখানে আন্দোলনের অন্যতম মুখ রেখা পাত্র প্রায় ৫ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে চমক দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে সন্দেশখালি ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি রাজ্যজুড়ে যে প্রচার চালিয়েছিল, তার ফল হাতেনাতে মিলেছে। এই কেন্দ্রের ফলাফলের ধারা বজায় রেখে গোটা রাজ্যেই ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে ২০৫টি আসনে এগিয়ে থেকে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগোচ্ছে বিজেপি। বিপরীতে মাত্র ৮৩টি আসনে থমকে গেছে শাসক শিবির, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
