পচা খাবারের পর এবার ভেজাল ওষুধ! বড়বাজারে ড্রাগ কন্ট্রোলের হানা, ৪০টি নামী রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
খাদ্যে ভেজালের চাঞ্চল্যকর খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভুয়ো ও নিম্নমানের ওষুধের কারবার রুখতে ময়দানে নামল প্রশাসন। বুধবার সকাল থেকেই উত্তর কলকাতার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বড়বাজারে চিরুনি তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB) এবং রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ। ফার্মাসিউটিক্যালসের দোকানগুলিতে ঢুকে ওষুধের ব্যাচ নম্বর, রসিদ ও গুণমান খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। খোলা বাজারে ভুয়ো ওষুধ ছড়িয়ে পড়া আটকানোই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, শহরবাসীকে পচা ও বিষাক্ত খাবার থেকে বাঁচাতে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুরসভাও। গত এক সপ্তাহে পার্ক স্ট্রিট, চায়না টাউন, ধর্মতলা ও বাইপাস সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১৭০টি নামী ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় সারপ্রাইজ ভিজিট চালিয়েছেন পুরকর্তারা। অভিযানের সময় অধিকাংশ রান্নাঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত বাসি মাংস, ছাতা পড়া পনির এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য।
নূন্যতম পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখার অপরাধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে অন্তত ৪০টি নামী রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং বাজেয়াপ্ত করা প্রায় ১,৫০০ কেজি পচা খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার স্বাস্থ্যাধিকারিক স্মিতা পান্ডে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দুর্গাপূজো পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে, তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধির পাঠ দেওয়া হবে এবং রান্নাঘর সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে পুরসভার স্বাস্থ্য মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারলেই পুনরায় দোকান খোলার অনুমতি মিলবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে লালবাজার ও পুর প্রশাসন যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলেছে, এই যৌথ অভিযান তারই প্রমাণ।
