পশুবলি নির্দেশিকা ঘিরে মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা, পরিস্থিতি সামলাতে শুভেন্দুকে অধীরের ‘মধ্যপন্থা’র চিঠি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক একটি পশুবলি সংক্রান্ত নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র বিভ্রান্তি ও চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলির সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রশমন করতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। রোববার, ১৭ মে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উদ্বেগের কেন্দ্রে সরকারি নোটিস
গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ‘পশুবলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ (Animal Slaughter Guidelines) মেনে চলার জন্য একটি পাবলিক নোটিস জারি করা হয়। এই সরকারি নির্দেশিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি বহুসাংস্কৃতিক এবং বৈচিত্র্যময় রাজ্য, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজস্ব ঐতিহ্য ও রীতিনীতি পালন করেন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার সিংহভাগ জনসংখ্যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায়, এই নতুন নির্দেশিকা সেখানে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সমাধানে অধীরের ‘মধ্যপন্থা’র ফর্মুলা
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য একটি মধ্যপন্থার প্রস্তাব দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা। মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর পরামর্শ, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু জায়গা চিহ্নিত এবং সীমানা নির্ধারণ (Demarcate) করা হোক। এই চিহ্নিত স্থানগুলি যেন কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রথাগত ও ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্যই ব্যবহার করা হয়। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করলে একদিকে যেমন সরকারি নিয়ম মানা সম্ভব হবে, তেমনই অন্য দিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে। রাজ্য সরকারের নতুন জমানায় এই স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল বিষয়টিকে প্রশাসন কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।
