পশুর খুঁত থাকলে কি কুরবানি কবুল হবে না! জেনে নিন ইসলামের কঠোর নিয়মাবলী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আসন্ন ইদুল আযহা বা বকরি ইদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশজুড়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে কুরবানির পশু এবং নির্দিষ্ট নিয়মাবলী নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কুরবানির সঠিক নিয়ম এবং পশু নির্বাচনের শর্তগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। ইসলাম ধর্মে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই বিশেষ ইবাদতের ক্ষেত্রে পশুর শারীরিক সুস্থতা ও যোগ্যতার ওপর অত্যন্ত কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কুরবানির গুরুত্ব
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি অগাধ আনুগত্যের স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর যুল-হিজ্জাহ মাসের ১০ তারিখে ইদুল আযহা উদযাপিত হয়। তবে ইসলামে কুরবানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এটি কেবল আর্থিক সামর্থ্যবান বা ‘সাহিবে নিসাব’ মুসলমানদের ওপর ফরজ। নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা, রূপা বা সমমূল্যের অর্থ থাকলে তবেই একজন ব্যক্তি কুরবানি দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। কারও ওপর বোঝা হয়ে বা ঋণ নিয়ে কুরবানি করার নিয়ম ইসলামে নেই।
যেসব পশুর কুরবানি গ্রহণযোগ্য নয়
কুরবানির জন্য পশুর বয়স এবং শারীরিক সুস্থতা প্রধান শর্ত। ইসলামে পশুর কোনো প্রকার শারীরিক ত্রুটি বা খুঁত থাকলে তা কুরবানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- অন্ধ বা দৃষ্টিহীন: চোখে দেখতে পায় না এমন পশু কুরবানি করা যাবে না।
- খোঁড়া বা পঙ্গু: যে পশু সঠিকভাবে হাঁটতে পারে না বা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না।
- অসুস্থ ও দুর্বল: গুরুতর রোগে আক্রান্ত এবং অত্যন্ত দুর্বল বা হাড্ডিসার পশু কুরবানির অনুপযুক্ত।
এছাড়া পশুর নির্দিষ্ট বয়স হওয়া বাধ্যতামূলক। ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে ১ বছর, গরু বা মহিষের ক্ষেত্রে ২ বছর এবং উটের ক্ষেত্রে ৫ বছর হওয়া জরুরি। মহিষ, গরু বা উটের মতো বড় পশুতে সর্বোচ্চ সাতজন অংশীদার হতে পারেন, তবে ছাগল বা ভেড়া কেবল একজনের পক্ষ থেকেই কুরবানি করা সম্ভব।
মানবিক আচরণ ও সামাজিক প্রভাব
ইসলামী বিধানে কুরবানির পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই করা কিংবা পশুর সামনে ছুরি ধার দেওয়াকে অনুচিত বলে গণ্য করা হয়। কুরবানি শেষে প্রাপ্ত মাংস সমান তিন ভাগে বণ্টন করার নিয়ম রয়েছে—এক ভাগ দরিদ্রদের জন্য, এক ভাগ আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং বাকি এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং অভাবী মানুষের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিয়ে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
