পাটুলিতে তোলাবাজি চক্রের পতন! ৫ লক্ষ টাকা কাটমানির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য

নিজস্ব প্রতিবেদন | কলকাতা: লাগামহীন তোলাবাজি ও কাটমানি আদায়ের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের বিতর্কিত তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। শনিবার রাতে তাঁকে পাটুলি থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতার ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চত্বর।
গ্রেফতারির নেপথ্যে ঘনিষ্ঠ নেতার বয়ান
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে খবর, কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের মূল সূত্র দিয়েছেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষ। তোলাবাজির অভিযোগে আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন সৌরভ। পুলিশের কঠোর জেরার মুখে সৌরভের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই বাপ্পাদিত্যর নাগাল পান তদন্তকারীরা। বাপ্পাদিত্যর রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডও বেশ চমকপ্রদ—একসময় বিজেপি নেতা তপন শিকদারের অনুগামী থাকলেও, পরে তিনি তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলে জায়গা করে নেন। ২০১৫ সালে প্রথম পুরভোটে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন বাপ্পাদিত্য। এর আগেও ২০২৩ সালে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।
দোকানদারদের ওপর জুলুমবাজি
পাটুলির ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকায় ‘সিন্ডিকেট রাজ’ কায়েম করেছিলেন বাপ্পাদিত্য ও সৌরভ। বিশেষ করে ঝিলপাড় সংলগ্ন এলাকার নতুন দোকানগুলোর ওপর ছিল তাঁদের কড়া নজর। ব্যবসায়ীদের দাবি:
- প্রতি দোকান পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে তোলা বা ‘কাটমানি’ দাবি করা হতো।
- টাকা না দিলে দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হতো।
- প্রতিবাদ করলে জুটত ভয়ংকর পরিণতির হুমকি।
ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। বাপ্পাদিত্য এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেফতারের পর এখন পাটুলি এলাকায় স্বস্তির হাওয়া। সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এখন ভয়মুক্ত পরিবেশে ব্যবসা ও দিনযাপনের আশা দেখছেন। এই জোড়া গ্রেফতারি স্থানীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
