পার্টি অফিসে থরেথরে সাজানো আধার কার্ড, বিধাননগরে তীব্র চাঞ্চল্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই খাস কলকাতা সংলগ্ন বিধাননগরে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিধাননগরের বাসন্তী দেবী কলোনির ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর শোরগোল।
জনসাধারণের ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বন্ধ পার্টি অফিসটি পুনরায় খোলার পর সেখান থেকে প্রায় ৫০টিরও বেশি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়। এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কিংবা ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় পরিচয়পত্রগুলি কার্যত জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি এলাকার মানুষের জমি জায়গা ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় কিছু নেতার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কেন সাধারণ মানুষের এতগুলি আধার কার্ড মজুত রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি, ভোট বা নথিসংক্রান্ত কারচুপি রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ দানা বাঁধছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নথির এমন অপব্যবহারের কারণে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর যেমন প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ মানুষের নথি উদ্ধারের প্রকৃত কারণ জানতে এলাকা জুড়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
