পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে এগিয়ে বিজেপি, নবান্ন দখলের যুদ্ধে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শুরুতেই রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। যদিও দুই শিবিরের ব্যবধান অত্যন্ত সামান্য, যা বাংলার মসনদ দখলের লড়াইকে এক রুদ্ধশ্বাস পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।
প্রাথমিক প্রবণতা ও শক্তিকেন্দ্রের লড়াই
সকাল থেকে পোস্টাল ব্যালট এবং প্রথম দফার ইভিএম গণনার পর দেখা যাচ্ছে, দুই প্রধান প্রতিপক্ষের মধ্যে লড়াই হচ্ছে ‘কাঁটে কি টক্কর’। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ড ও নারী সুরক্ষার মতো ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটব্যাংক বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে প্রাথমিক আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রামীণ বাংলা এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর ভর করে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
নির্বাচনের এক্স-ফ্যাক্টর: রেকর্ড ভোটদান
এবারের নির্বাচনে ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদান একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিনরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের ঘরে ফেরা এবং তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই ভোটের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে প্রাণহানিহীন এই নির্বাচনে মানুষের নির্ভয়ে ভোট দানই ফলাফলে বড় ধরনের উলট-পালট ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি বনাম জনকল্যাণ
বিজেপির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি নারী নিগ্রহের ঘটনা। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল ভরসা তাদের তৃণমূল স্তরের মজবুত সংগঠন ও সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছানো সরকারি সুবিধা। এক্সিট পোলের পূর্বাভাস বিজেপির দিকে থাকলেও, ঘাসফুল শিবির আত্মবিশ্বাসী যে চূড়ান্ত রাউন্ডের শেষে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
দুপুর গড়াতেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত কার অভিষেক ঘটছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন, নাকি বিজেপির হাত ধরে নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহর ও জেলাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বজায় রেখেছে প্রশাসন।
