বাংলার ভাগ্য পরীক্ষা: পরিবর্তনের ঢেউ নাকি প্রত্যাবর্তনের হ্যাটট্রিক প্লাস? – এবেলা

বাংলার ভাগ্য পরীক্ষা: পরিবর্তনের ঢেউ নাকি প্রত্যাবর্তনের হ্যাটট্রিক প্লাস? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফলাফল ঘোষণার দিন আজ। সোমবার সকাল ৮টা থেকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া গণনাকেন্দ্রগুলোতে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। রাজ্যের ২৯৩টি আসনে (ফলতা বাদে) কে শেষ হাসি হাসবে—তৃণমূলের চতুর্থবারের প্রত্যাবর্তন নাকি বিজেপির ঐতিহাসিক পরিবর্তন—তা নিয়ে টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে গোটা বাংলা। প্রাথমিক প্রবণতা বা ‘ট্রেন্ড’ অনুযায়ী, ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে এক সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুরুতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও প্রাথমিক প্রবণতা

সকাল ৮টায় পোস্টাল ব্যালট এবং সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএম গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সমানে সমান টক্কর চলছে। কোনো কোনো আসনে বিজেপি প্রাথমিক লিড নিলেও গ্রামীণ এলাকায় তৃণমূল শক্ত অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুপুর ১২টার মধ্যেই বাংলার মসনদে কে বসছেন, সেই চিত্রটি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে বিকেল গড়িয়ে যেতে পারে।

নির্বাচনী ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ও নতুন সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে ৯২ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদান বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

  • পরিযায়ী শ্রমিকের ভোট: ভিনরাজ্য থেকে রেকর্ড সংখ্যক শ্রমিকের বাড়ি ফিরে ভোটদান এবারের নির্বাচনের একটি বড় ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হতে পারে।
  • নারী ও গ্রামীণ ভোট: তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বনাম বিজেপির নারী সুরক্ষা ও ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার লড়াই এবার ফলাফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
  • নতুন রাজনৈতিক শক্তি: আইএসএফ এবং অন্যান্য স্থানীয় জোট সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটব্যাঙ্কে কতটা ফাটল ধরাতে পারল, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের জয়-পরাজয়।

ফলতা কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত

রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে আজ ২৯৩টিতে গণনা চললেও ব্যতিক্রম কেবল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনটি। ভোট প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সেখানে ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল করেছে। আগামী ২১ মে ফলতা কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৪ মে তার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য দুর্গ ও নজরদারি

ভোটগণনা শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রায় ৭০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে ঘিরে রয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। এছাড়া স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারিও চালানো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দুর্গ রক্ষা করতে পারেন নাকি বাংলায় নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *