পাসপোর্ট বা আধার নয়! জেনে নিন কোন নথিতে মিলবে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ কী, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল বিতর্ক ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিদেশমন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পাসপোর্ট কেবল বিদেশ ভ্রমণের একটি বৈধ নথি, এটি কোনওভাবেই নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ নয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যদি পাসপোর্ট বা আধার না হয়, তবে ঠিক কোন নথির সাহায্যে নিজেকে ‘ভারতীয়’ হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব!
পরিচয়পত্র বনাম নাগরিকত্বের প্রমাণ
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথিগুলি মূলত ঠিকানা ও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এমনকি পাসপোর্টও নাগরিকত্বের আইনি গ্যারান্টি দেয় না। বিদেশমন্ত্রকের মতে, পাসপোর্ট প্রদান করা হয় পাসপোর্ট আইনের অধীনে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে অ-নাগরিকদেরও পাসপোর্ট দিতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের নাগরিকত্ব সম্পূর্ণরূপে নির্ধারিত হয় ‘নাগরিকত্ব আইন’-এর মাধ্যমে। তাই এই দৈনন্দিন পরিচয়পত্রগুলি কোনওভাবেই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয় না।
তাহলে চূড়ান্ত প্রমাণ কোনটি!
আইন অনুযায়ী, ভারত সরকারের দেওয়া ‘নাগরিকত্বের শংসাপত্র’ বা সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেটই হল নাগরিকত্বের একমাত্র বৈধ ও চূড়ান্ত প্রমাণ। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়ই জন্মসূত্রে বা পিতামাতার সূত্রে নাগরিক হওয়ায় তাঁদের কাছে এই বিশেষ শংসাপত্র থাকে না। নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরা ভারতে জন্মেছেন, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই জন্মসূত্রে ভারতীয়। পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পিতামাতার নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বার্থ সার্টিফিকেট বা পিতামাতার নাগরিকত্বের নথি পেশ করে নাগরিকত্ব প্রমাণের পথ খোলা থাকলেও, ভারতের সাধারণ নাগরিকদের কাছে এমন কোনও একক ও নির্দিষ্ট নথি নেই যা সরাসরি নাগরিকত্ব প্রমাণ করে। নির্দিষ্ট নথির এই অভাবের কারণে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক ও আইনি কাজে নানা ধরনের জটিলতা ও বিভ্রান্তি বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
