প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট, অগস্টে হতে পারে শুনানি – এবেলা

প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট, অগস্টে হতে পারে শুনানি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলাটি এক নতুন মোড় নিল। কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চাকরি বহালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের দায়ের করা মামলাটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস জারি করেছে। আগামী অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই স্পর্শকাতর মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

হাই কোর্টের রায় বনাম সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ

এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ কর্মরত ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পক্ষে রায় দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কর্মরত সমস্ত শিক্ষক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে মেলেনি এবং মুষ্টিমেয় কিছু ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর জন্য বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি কেড়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মূল মামলাকারী বঞ্চিত প্রার্থীরা। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করায় আইনি লড়াই এবার দিল্লির দরবারে পৌঁছাল।

আইনি জটিলতার দীর্ঘ ইতিহাস

এই মামলার সূত্রপাত ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৪৪৯টি শূন্যপদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির পর ২০১৭ সাল থেকে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়, যার মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার প্রার্থী ছিলেন প্রশিক্ষণহীন। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, কোনো মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই রাতের অন্ধকারে এসএমএস-এর মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ এই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ফেরত আসে এবং গত বছরের ডিসেম্বরে কর্মরতদের পক্ষে রায় ঘোষণা হয়। এবার সেই রায় ঘিরেই সর্বোচ্চ আদালতে নতুন করে আইনি যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *