প্রেমের প্রস্তাবে না, চলন্ত বাসে কিশোরীকে নৃশংসভাবে খুনে যাবজ্জীবন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রেমের প্রস্তাবে সায় না দেওয়ার চরম পরিণতি। চলন্ত বাসে এক ১৫ বছরের কিশোরীকে গলা কেটে খুনের দায়ে অভিযুক্ত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার কাটোয়া ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক রুদ্রপ্রসাদ রায় অভিযুক্ত ইজাজুল শেখ ওরফে বাবুকে এই সাজা শোনান। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের জেলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হওয়ার পর কাটোয়া মহকুমা আদালতে এটিই প্রথম সাজা ঘোষণার ঘটনা।
ভয়ংকর সেই বাসযাত্রা ও পুলিশের তৎপরতা
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কেতুগ্রামের কুমোরপুরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাসে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আরসিদা খাতুন ওরফে জ্যোতি তার মাসি ও দিদিমার সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। বাসটি সামান্য এগোতেই প্রতিবেশী যুবক ইজাজুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে জ্যোতির গলা কেটে দেয়। যাত্রীদের চিৎকারে বাস থামলে রক্তমাখা ছুরি হাতেই সে চম্পট দেয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় কিশোরীর। মূলত একতরফা প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অন্ধ আক্রোশ থেকেই এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ স্নিফার ডগ ও ড্রোন ব্যবহার করে দিনভর চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে ধানখেতের কাদাজল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সামাজিক প্রভাব
গ্রেপ্তারের পর থেকে অভিযুক্ত হেফাজতেই ছিল। দ্রুত তদন্ত শেষ করে পুলিশ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার্জশিট পেশ করে এবং ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায়দান সম্পন্ন হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে দ্রুততম সময়ে এই বিচারপ্রক্রিয়া নারী ও শিশুদের ওপর হওয়া নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে একটি কড়া বার্তা দিচ্ছে। এই যাবজ্জীবন সাজার দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে একতরফা প্রেম ও তার জেরে ঘটা প্রতিহিংসামূলক অপরাধের প্রবণতা কমাতে বড় আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
