বদলে যাচ্ছে সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়ম! ১লা মে থেকে ওটিপি ও ডেলিভারিতে বড় পরিবর্তন?
ক্যালেন্ডারের পাতায় মে মাস পড়তে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, আর এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে রান্নার গ্যাসের দাম ও সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল বিপণন সংস্থাগুলো মে মাসের শুরুতে দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক ও গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি
কলকাতায় ১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এপ্রিল মাসেই ২১৮ টাকা বেড়ে ২২০৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মে মাসেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, বর্তমানে কলকাতায় ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকা থাকলেও যুদ্ধের আবহে আমদানির খরচ বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপানো হতে পারে। ভারত জ্বালানি আমদানির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল হওয়ায় বিশ্ববাজারের এই চাপের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন ও নিরাপত্তা
দামের পাশাপাশি রান্নার গ্যাস বুকিং এবং সরবরাহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে ২৫ দিনের যে বাধ্যতামূলক ব্যবধান বা লক-ইন পিরিয়ড রয়েছে, মে মাস থেকে তাতে বড় বদল আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কালোবাজারি রুখতে ও গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি (OTP) ভিত্তিক ডেলিভারি ব্যবস্থাকে স্থায়ী করার পরিকল্পনা করছে তেল সংস্থাগুলো।
সরবরাহে সরকারি আশ্বাস
যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার ও এইচপিসিএল-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, দেশে এলপিজি বা সিএনজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। ১ মে সকালেই তেল সংস্থাগুলো তাদের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করবে। বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়লে তেল বিপণন সংস্থাগুলো সেই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কমাতে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটেই শেষ পর্যন্ত কোপ মারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- মে মাসের শুরু থেকেই ১৯ কেজি বাণিজ্যিক ও ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম বাড়ার জোরালো আশঙ্কা।
- রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২৫ দিনের লক-ইন পিরিয়ড বা ব্যবধানে পরিবর্তন আসতে পারে।
- সুরক্ষা ও কালোবাজারি বন্ধে সিলিন্ডার সরবরাহে ওটিপি (OTP) ভিত্তিক ব্যবস্থা স্থায়ী করার পরিকল্পনা।
- পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
